সিরাজগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের ডাটাবেজ তৈরি ও অগ্রগতি নিয়ে প্রেস কনফারেন্স
- Update Time : ১০:১০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮ Time View

সিরাজগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ, ডাটাবেজ তৈরি ও সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে এক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর এই প্রজেক্টের জরিপ পদ্ধতি, তথ্য যাচাই ও পরবর্তী সুবিধাসমূহ বিস্তারিত তুলে ধরেন।
খানা জরিপ ও জনসংখ্যার বিবরণ
প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, একটি প্রমিত বা স্ট্যান্ডার্ড পরিবারের আকার হিসাব করে এই সার্বিক জরিপ চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ আদমশুমারি ও গৃহগণনার মানদণ্ড অনুযায়ী একটি পরিবারের গড় আকার ৪.০৪ বিবেচনা করে ডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা: মোট ৪ লাখ ৭১ হাজার জনসংখ্যার অনুকূলে আনুমানিক ১ লাখ ১৫ হাজার ২৫৪টি খানা (Household) নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভা: ৪৯,৮৪৭টি খানায় প্রায় ২ লাখ জনসংখ্যাকে হিসাবের আওতায় আনা হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বচ্ছ জরিপ প্রক্রিয়া
পৌরসভা ও সদর উপজেলার প্রতিটি খানায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই সার্ভে পরিচালনা করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
১০০-র বেশি প্রশ্নমালা: পরিবারের বার্ষিক আয়-ব্যয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ঘরের ধরণ (কাঁচা/পাকা), বিদ্যুৎ সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর ১০০টিরও বেশি প্রশ্ন সংবলিত ফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।
জিও-ট্যাগিং ও ছবি: প্রতিটি ঘরের সঠিক অবস্থান (Geolocated Photo) এবং ঘরের ধরণ/আসবাবপত্রের ছবি তুলে সরাসরি সার্ভারে জিও-ট্যাগ করে আপলোড করা হচ্ছে।
’পিএমটিএস’ (PMTS) স্কোরিং ও দারিদ্র্য নির্ধারণ
জরিপে প্রাপ্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটারাইজড সিস্টেম বা PMTS (Proxy Means Testing System)-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হবে।
সম্পূর্ণ প্রযুক্তিভিত্তিক স্কোরিংয়ের মাধ্যমে পরিবারের দারিদ্র্যের মাত্রা নির্ধারিত হবে।
এতে কোনো ধরনের ম্যানুয়াল বা মানবিক হস্তক্ষেপের (Human Intervention) সুযোগ থাকবে না।
প্রাপ্ত স্কোর অনুযায়ী সবচেয়ে দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকার শীর্ষে স্থান পাবে।
পাইলট প্রজেক্টের সাফল্য ও বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা
পূর্বে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সফলভাবে এই কার্যক্রমের পাইলটিং সম্পন্ন হয়। সেখানে ৮৫৪টি খানায় জরিপ চালিয়ে ৬৫৩টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। সুবিধাভোগীরা ইতোমধ্যে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি)-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর দেশজুড়ে প্রায় ৪১ লক্ষ পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও তথ্যের ভিত্তিতে এর পরিধি এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। প্রেস কনফারেন্সের শেষ পর্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সমাজসেবা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ।
নিউজটিতে অন্য কোনো নির্দিষ্ট তথ্য যুক্ত করতে চাইলে বা ফরম্যাটে কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে জানাতে পারেন!



















