১২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​সিরাজগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের ডাটাবেজ তৈরি ও অগ্রগতি নিয়ে প্রেস কনফারেন্স

​মোঃ আব্দুল মোমিন, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • Update Time : ১০:১০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ Time View

সিরাজগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ, ডাটাবেজ তৈরি ও সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে এক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর এই প্রজেক্টের জরিপ পদ্ধতি, তথ্য যাচাই ও পরবর্তী সুবিধাসমূহ বিস্তারিত তুলে ধরেন।
​খানা জরিপ ও জনসংখ্যার বিবরণ
​প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, একটি প্রমিত বা স্ট্যান্ডার্ড পরিবারের আকার হিসাব করে এই সার্বিক জরিপ চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ আদমশুমারি ও গৃহগণনার মানদণ্ড অনুযায়ী একটি পরিবারের গড় আকার ৪.০৪ বিবেচনা করে ডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে:
​সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা: মোট ৪ লাখ ৭১ হাজার জনসংখ্যার অনুকূলে আনুমানিক ১ লাখ ১৫ হাজার ২৫৪টি খানা (Household) নির্ধারণ করা হয়েছে।
​সিরাজগঞ্জ পৌরসভা: ৪৯,৮৪৭টি খানায় প্রায় ২ লাখ জনসংখ্যাকে হিসাবের আওতায় আনা হয়েছে।
​আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বচ্ছ জরিপ প্রক্রিয়া
​পৌরসভা ও সদর উপজেলার প্রতিটি খানায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই সার্ভে পরিচালনা করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
​১০০-র বেশি প্রশ্নমালা: পরিবারের বার্ষিক আয়-ব্যয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ঘরের ধরণ (কাঁচা/পাকা), বিদ্যুৎ সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর ১০০টিরও বেশি প্রশ্ন সংবলিত ফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।
​জিও-ট্যাগিং ও ছবি: প্রতিটি ঘরের সঠিক অবস্থান (Geolocated Photo) এবং ঘরের ধরণ/আসবাবপত্রের ছবি তুলে সরাসরি সার্ভারে জিও-ট্যাগ করে আপলোড করা হচ্ছে।
​’পিএমটিএস’ (PMTS) স্কোরিং ও দারিদ্র্য নির্ধারণ
​জরিপে প্রাপ্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটারাইজড সিস্টেম বা PMTS (Proxy Means Testing System)-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হবে।
​সম্পূর্ণ প্রযুক্তিভিত্তিক স্কোরিংয়ের মাধ্যমে পরিবারের দারিদ্র্যের মাত্রা নির্ধারিত হবে।
​এতে কোনো ধরনের ম্যানুয়াল বা মানবিক হস্তক্ষেপের (Human Intervention) সুযোগ থাকবে না।
​প্রাপ্ত স্কোর অনুযায়ী সবচেয়ে দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকার শীর্ষে স্থান পাবে।
​পাইলট প্রজেক্টের সাফল্য ও বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা
​পূর্বে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সফলভাবে এই কার্যক্রমের পাইলটিং সম্পন্ন হয়। সেখানে ৮৫৪টি খানায় জরিপ চালিয়ে ৬৫৩টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। সুবিধাভোগীরা ইতোমধ্যে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি)-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
​কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর দেশজুড়ে প্রায় ৪১ লক্ষ পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও তথ্যের ভিত্তিতে এর পরিধি এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। প্রেস কনফারেন্সের শেষ পর্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সমাজসেবা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ।
​নিউজটিতে অন্য কোনো নির্দিষ্ট তথ্য যুক্ত করতে চাইলে বা ফরম্যাটে কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে জানাতে পারেন!

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​সিরাজগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের ডাটাবেজ তৈরি ও অগ্রগতি নিয়ে প্রেস কনফারেন্স

Update Time : ১০:১০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ, ডাটাবেজ তৈরি ও সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে এক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর এই প্রজেক্টের জরিপ পদ্ধতি, তথ্য যাচাই ও পরবর্তী সুবিধাসমূহ বিস্তারিত তুলে ধরেন।
​খানা জরিপ ও জনসংখ্যার বিবরণ
​প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, একটি প্রমিত বা স্ট্যান্ডার্ড পরিবারের আকার হিসাব করে এই সার্বিক জরিপ চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ আদমশুমারি ও গৃহগণনার মানদণ্ড অনুযায়ী একটি পরিবারের গড় আকার ৪.০৪ বিবেচনা করে ডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে:
​সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা: মোট ৪ লাখ ৭১ হাজার জনসংখ্যার অনুকূলে আনুমানিক ১ লাখ ১৫ হাজার ২৫৪টি খানা (Household) নির্ধারণ করা হয়েছে।
​সিরাজগঞ্জ পৌরসভা: ৪৯,৮৪৭টি খানায় প্রায় ২ লাখ জনসংখ্যাকে হিসাবের আওতায় আনা হয়েছে।
​আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বচ্ছ জরিপ প্রক্রিয়া
​পৌরসভা ও সদর উপজেলার প্রতিটি খানায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই সার্ভে পরিচালনা করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
​১০০-র বেশি প্রশ্নমালা: পরিবারের বার্ষিক আয়-ব্যয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ঘরের ধরণ (কাঁচা/পাকা), বিদ্যুৎ সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর ১০০টিরও বেশি প্রশ্ন সংবলিত ফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।
​জিও-ট্যাগিং ও ছবি: প্রতিটি ঘরের সঠিক অবস্থান (Geolocated Photo) এবং ঘরের ধরণ/আসবাবপত্রের ছবি তুলে সরাসরি সার্ভারে জিও-ট্যাগ করে আপলোড করা হচ্ছে।
​’পিএমটিএস’ (PMTS) স্কোরিং ও দারিদ্র্য নির্ধারণ
​জরিপে প্রাপ্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটারাইজড সিস্টেম বা PMTS (Proxy Means Testing System)-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হবে।
​সম্পূর্ণ প্রযুক্তিভিত্তিক স্কোরিংয়ের মাধ্যমে পরিবারের দারিদ্র্যের মাত্রা নির্ধারিত হবে।
​এতে কোনো ধরনের ম্যানুয়াল বা মানবিক হস্তক্ষেপের (Human Intervention) সুযোগ থাকবে না।
​প্রাপ্ত স্কোর অনুযায়ী সবচেয়ে দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকার শীর্ষে স্থান পাবে।
​পাইলট প্রজেক্টের সাফল্য ও বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা
​পূর্বে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সফলভাবে এই কার্যক্রমের পাইলটিং সম্পন্ন হয়। সেখানে ৮৫৪টি খানায় জরিপ চালিয়ে ৬৫৩টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। সুবিধাভোগীরা ইতোমধ্যে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি)-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
​কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর দেশজুড়ে প্রায় ৪১ লক্ষ পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও তথ্যের ভিত্তিতে এর পরিধি এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। প্রেস কনফারেন্সের শেষ পর্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সমাজসেবা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ।
​নিউজটিতে অন্য কোনো নির্দিষ্ট তথ্য যুক্ত করতে চাইলে বা ফরম্যাটে কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে জানাতে পারেন!