ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তের রুট বদলে সদরে ডেরা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৯০ পিস ইয়াবাসহ গাজীপুরের ‘কালু’ র‍্যাবের জালে

মোঃ বাদশা মিয়া, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,
মোঃ বাদশা মিয়া, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 108

ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
গাজীপুরের বাসিন্দা হয়েও সীমান্তবর্তী এলাকায় আস্তানা গেড়েছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য—সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালান এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ব্যস্ততম পয়েন্টে সরবরাহ করা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; র‍্যাব-৯-এর বিশেষ অভিযানে ৩৯০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন দেওয়ান নাহিদ হাসান ওরফে কালু (৩৭) নামের এক মাদক কারবারি।
​শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানাধীন কাউতলী মোড়ের আনসার-ভিডিপি কার্যালয়ের সামনের সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক কালু গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার উত্তর ভাদার্থী গ্রামের মোঃ কামাল উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে।
​অনুসন্ধান: আড়ালে যেভাবে চলছিল সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে মাদক সরবরাহের রুটে কৌশলগত পরিবর্তন এনেছিল এই চক্র। কালু গাজীপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সীমান্তবর্তী রুট ব্যবহার করে মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
​ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী মোড় ও আনসার-ভিডিপি কার্যালয় সংলগ্ন এলাকাটিকে তুলনামূলক ‘নিরাপদ ড্রপ পয়েন্ট’ হিসেবে বেছে নেয় চক্রটি। সীমান্ত এলাকা থেকে পাইকারি দরে ইয়াবা সংগ্রহ করে শহরের স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে চড়া দামে পৌঁছে দেওয়াই ছিল কালুর মূল দায়িত্ব।
​’অপারেশন কাউতলী’: যেভাবে ধরা পড়লেন কালু
র‍্যাব-৯, সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্প)-এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, আনসার-ভিডিপি কার্যালয়ের পাশের সড়কে মাদক কেনাবেচার প্রস্তুতি চলছে।
​রাত ৮:২০ — সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাবের টহল দল এলাকায় অবস্থান নেয়।
​রাত ৮:৩০ — আভিযানিক দল লক্ষ্যস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন কালু।
​তল্লাশি ও জব্দ — র‍্যাব সদস্যরা চারপাশ থেকে ঘেরাও করে তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পকেটে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার নীল রঙের জিন্স প্যান্টের ডান পকেট থেকে বায়ুরোধক দুটি কালো পলি জিপার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে মেলে ৩৯০ পিস ইয়াবা।
​আইনি পদক্ষেপ
র‍্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটের পেছনে আর কারা জড়িত, তা শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
​গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরপূর্বক জব্দকৃত আলামতসহ তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সীমান্তের রুট বদলে সদরে ডেরা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৯০ পিস ইয়াবাসহ গাজীপুরের ‘কালু’ র‍্যাবের জালে

প্রকাশের সময় : ১২:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
গাজীপুরের বাসিন্দা হয়েও সীমান্তবর্তী এলাকায় আস্তানা গেড়েছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য—সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালান এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ব্যস্ততম পয়েন্টে সরবরাহ করা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; র‍্যাব-৯-এর বিশেষ অভিযানে ৩৯০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন দেওয়ান নাহিদ হাসান ওরফে কালু (৩৭) নামের এক মাদক কারবারি।
​শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানাধীন কাউতলী মোড়ের আনসার-ভিডিপি কার্যালয়ের সামনের সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক কালু গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার উত্তর ভাদার্থী গ্রামের মোঃ কামাল উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে।
​অনুসন্ধান: আড়ালে যেভাবে চলছিল সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে মাদক সরবরাহের রুটে কৌশলগত পরিবর্তন এনেছিল এই চক্র। কালু গাজীপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সীমান্তবর্তী রুট ব্যবহার করে মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
​ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী মোড় ও আনসার-ভিডিপি কার্যালয় সংলগ্ন এলাকাটিকে তুলনামূলক ‘নিরাপদ ড্রপ পয়েন্ট’ হিসেবে বেছে নেয় চক্রটি। সীমান্ত এলাকা থেকে পাইকারি দরে ইয়াবা সংগ্রহ করে শহরের স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে চড়া দামে পৌঁছে দেওয়াই ছিল কালুর মূল দায়িত্ব।
​’অপারেশন কাউতলী’: যেভাবে ধরা পড়লেন কালু
র‍্যাব-৯, সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্প)-এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, আনসার-ভিডিপি কার্যালয়ের পাশের সড়কে মাদক কেনাবেচার প্রস্তুতি চলছে।
​রাত ৮:২০ — সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাবের টহল দল এলাকায় অবস্থান নেয়।
​রাত ৮:৩০ — আভিযানিক দল লক্ষ্যস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন কালু।
​তল্লাশি ও জব্দ — র‍্যাব সদস্যরা চারপাশ থেকে ঘেরাও করে তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পকেটে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার নীল রঙের জিন্স প্যান্টের ডান পকেট থেকে বায়ুরোধক দুটি কালো পলি জিপার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে মেলে ৩৯০ পিস ইয়াবা।
​আইনি পদক্ষেপ
র‍্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটের পেছনে আর কারা জড়িত, তা শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
​গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরপূর্বক জব্দকৃত আলামতসহ তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।