০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্ত থেকে শহর: বাইকের সিটের নিচে অভিনব কায়দায় মাদক পাচার, নেপথ্যে শক্তিশালী চক্র

মোঃ বাদশা মিয়া সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :
  • Update Time : ০৭:৪১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৪ Time View

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একের পর এক অভিযানে রুট ও কৌশল বদলে ফেলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তঘেঁষা অপরাধী চক্রগুলো। সাধারণ পরিবহনের বদলে এবার ব্যবহৃত হচ্ছে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল, আর মাদক লুকানোর জন্য তৈরি করা হচ্ছে গোপন চেম্বার। রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিজয়নগরে পরিচালিত এক অনুসন্ধানী অভিযানে এমনই এক অভিনব পাচার কৌশলের তথ্য উন্মোচন করেছে র‌্যাব-৯।
​ঘটনা ও গোপন সংবাদের সূত্রপাত
অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক এনে অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে লিপ্ত একটি চতুর সিন্ডিকেট। রোববার রাতে র‌্যাব-৯, সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্প)-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে— বিজয়নগর থানাধীন পত্তন ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের নিরিবিলি একটি ইটের সলিং রাস্তায় মাদকের বড় একটি চালানের হাতবদল হতে যাচ্ছে।
​অভিযান ও চোরাকারবারির চতুরতা
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে র‌্যাবের টিমটি কেশবপুরের ওই নির্জন এলাকায় অভিযান চালায়। তবে সীমান্ত এলাকার গলিপথ ও ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই এক চোরাকারবারি দ্রুত তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে অন্ধকারে চম্পট দেয়।
​ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটিতে প্রথম দৃষ্টিতে কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া না গেলেও অনুসন্ধানী তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। বাইকটির সিটের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন স্থানে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫০ বোতল নিষিদ্ধ ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
​তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
উদ্ধারকৃত মাদকের চালান ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে বিজয়নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে পলাতক মাদক কারবারির পরিচয় শনাক্ত এবং তার পেছনে থাকা মূল অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
​আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেটগুলো নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সীমান্ত থেকে শহর: বাইকের সিটের নিচে অভিনব কায়দায় মাদক পাচার, নেপথ্যে শক্তিশালী চক্র

Update Time : ০৭:৪১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একের পর এক অভিযানে রুট ও কৌশল বদলে ফেলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তঘেঁষা অপরাধী চক্রগুলো। সাধারণ পরিবহনের বদলে এবার ব্যবহৃত হচ্ছে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল, আর মাদক লুকানোর জন্য তৈরি করা হচ্ছে গোপন চেম্বার। রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিজয়নগরে পরিচালিত এক অনুসন্ধানী অভিযানে এমনই এক অভিনব পাচার কৌশলের তথ্য উন্মোচন করেছে র‌্যাব-৯।
​ঘটনা ও গোপন সংবাদের সূত্রপাত
অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক এনে অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে লিপ্ত একটি চতুর সিন্ডিকেট। রোববার রাতে র‌্যাব-৯, সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্প)-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে— বিজয়নগর থানাধীন পত্তন ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের নিরিবিলি একটি ইটের সলিং রাস্তায় মাদকের বড় একটি চালানের হাতবদল হতে যাচ্ছে।
​অভিযান ও চোরাকারবারির চতুরতা
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে র‌্যাবের টিমটি কেশবপুরের ওই নির্জন এলাকায় অভিযান চালায়। তবে সীমান্ত এলাকার গলিপথ ও ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই এক চোরাকারবারি দ্রুত তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে অন্ধকারে চম্পট দেয়।
​ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটিতে প্রথম দৃষ্টিতে কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া না গেলেও অনুসন্ধানী তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। বাইকটির সিটের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন স্থানে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫০ বোতল নিষিদ্ধ ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
​তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
উদ্ধারকৃত মাদকের চালান ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে বিজয়নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে পলাতক মাদক কারবারির পরিচয় শনাক্ত এবং তার পেছনে থাকা মূল অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
​আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেটগুলো নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”