৩ মাসে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
- প্রকাশের সময় : ০৭:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 21

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বাগেরহাট (রামপাল -মোংলা) ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে দেশে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরশক্তি উৎপাদন করবে সরকার। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকা থেকেই ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে “ব্ল্যাক কার্বন ও অন্যান্য স্বল্পস্থায়ী জলবায়ু দূষণকারী নিয়ে সায়েন্স পলিসি ডায়ালগ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের টার্গেট ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন। ধাপে ধাপে আমরা সৌরশক্তির উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়াবো, যাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পেয়েছে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২,০০০ মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়া সারাদেশে অসংখ্য ইটভাটা রয়েছে। এখান থেকে কত পরিমাণ ব্ল্যাক কার্বন নির্গত হচ্ছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
ইটভাটার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট বায়ুদূষণের প্রায় ১৩ শতাংশ আসে ইটভাটা থেকে। এসব ভাটায় উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা ২০০টি ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং এর বদলে কংক্রিট ব্লক চালু করা হচ্ছে, যাতে দূষণ কমে।
তিনি বলেন, এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। এজন্য কাজটি কঠিন হলেও আমরা পেশাদারিত্বের সাথে তা মোকাবিলা করছি। ইটভাটা বন্ধ না করলে কোনোভাবেই বাতাসের মান উন্নত করা সম্ভব হবে না।
সীমান্তপার দূষণ প্রসঙ্গে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ আসছে সীমান্ত পেরিয়ে। কারণ ভারতের বেশিরভাগ ভারী শিল্পকারখানা সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর কূটনৈতিক ইস্যু। তাই প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা এই ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ বন্ধ করা আমাদের জন্য বাস্তবে কঠিন।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকার বৃহৎ আকারে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বাস ও গাড়ি আমদানির পরিকল্পনা করেছে। এগুলো সবই প্রকৃতিনির্ভর বায়ুদূষণ সমাধানের অংশ।
নদী দূষণ নিয়ে তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু এবং ধলেশ্বরী নদীর ৪২৪টিরও বেশি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছি যেখান থেকে কোনো পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি বিষাক্ত বর্জ্য ও দূষিত পানি এই নদীগুলোতে ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পবর্জ্য, সিটি কর্পোরেশনের ময়লা, ঢাকা ওয়াসা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার নির্গমন। ঢাকার আশেপাশের এই মূল্যবান নদী ও জলাশয়গুলোকে পুনরুদ্ধার করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুস্টাফসন।#



















