লৌহজংয়ে পরিবেশ ছাড়পত্রহীন কারখানাকে জরিমানা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
- Update Time : ০৭:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮ Time View

ফৌজি হাসান খান রিকু,
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি-
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় ‘অপটিমা ট্রাক ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কারপাশা গ্রামে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চলা অপটিমার ট্রাক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি বিষাক্ত ধাতু গলানো ও ট্রান্সফরমার মেরামতের কারখানায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ববি মিতুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কড়া নিরাপত্তার আড়ালে গোপনে ‘ট্রান্সফরমার ফ্যাক্টরি’ নামে পরিচালিত হচ্ছিল কারখানাটি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ইলেকট্রিক চুল্লিতে লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও সিলভার গলিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করা হতো। এসব অবৈধ যন্ত্রাংশ পরবর্তীতে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে বিক্রি করা হতো।
কারখানাটিতে মোবাইল টাওয়ার ও বিদ্যুৎ সংযোগের চোরাই মালামাল কেনাবেচা করার পাশাপাশি মারাত্মক এসিড ব্যবহার করে ব্যবহৃত পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ পণ্যকে পেশাদারভাবে মেরামত, পরীক্ষা ও পরিষ্কার করে পুনরায় নতুনের মতো কার্যক্ষম করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হতো। এছাড়া কারখানাটি স্থানীয় মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয় ও সেবনের আখড়া হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে নান্টু নামে এক ব্যক্তি কারখানাটি স্থাপন করেন। তবে বর্তমানে মজিবর ও আলামিন নামের দুই ব্যক্তি এর মূল নিয়ন্ত্রণে ছিলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী এই অভিযান চালানো হয়। কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত তার গলানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযানকালে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য করেন এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করেন। পাশাপাশি পরিবেশগত ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে পরিবেশ অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সানোয়ার হোসেন, স্থানীয় পুলিশ সদস্য এবং পল্লী বিদ্যুতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ববি মিতু জানান, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে অবৈধ এবং ছাড়পত্রহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে



















