ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসআই সোহেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ঘুষ, তদন্ত জালিয়াতি ও সাংবাদিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
- Update Time : ০২:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৩ Time View

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে ঘুষ গ্রহণ, তদন্ত প্রতিবেদন জালিয়াতি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে যাওয়া সাংবাদিকদের শারীরিক নির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল মাহমুদের বিরুদ্ধে। তদন্ত ও আইনি সহায়তার নামে সাধারণ পরিবারকে জিম্মি করে লাখ টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তের নামে জিম্মি ও অর্থ আদায়
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেওয়াই গ্রামের মাহমুদা বেগমের একটি পারিবারিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আসামি গ্রেপ্তার ও গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের আশ্বাস দিয়ে তিন দফায় তাঁদের কাছ থেকে ৫৮ হাজার টাকা আদায় করেন এসআই সোহেল মাহমুদ।
পরবর্তী সময়ে বিবাদী পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা দায়ের করা হলে, অভিযোগ থেকে ভুক্তভোগীর মেয়ে ও জামাতার নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি ও গ্রহণ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৮ হাজার টাকা লেনদেনের পর মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলে ভুক্তভোগীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমার অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরও কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী বা স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য না নিয়ে সম্পূর্ণ একপেশে ও মনগড়া একটি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া দাখিল করা এই প্রতিবেদনের কারণে পরিবারটি এখন চরম আইনি হয়রানি ও বৈষম্যের মুখে পড়েছে।
সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে নির্যাতন ও ফোন ছিনতাই
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এসআই সোহেল মাহমুদ। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, তথ্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উল্টো চাঁদা দাবির অপচেষ্টাও চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা ও পুনঃতদন্তের দাবি
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন কর্মকর্তার এমন অপেশাদার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বিতর্কিত এই তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনঃতদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে এসআই সোহেল মাহমুদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
(প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে অভিযুক্ত এসআই সোহেল মাহমুদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যুক্ত করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।)



















