সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ
- Update Time : ১১:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৪ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি : অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে কোস্টগার্ডের কাছে আত্নসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের বনদস্যু ‘ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্টগার্ড মোংলা সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোস্টগার্ডের কাছে আত্নসমর্পণ করে তারা। আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন- ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), তার দলের সদস্য সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫), আজিজুর রহমান (৪৫)। তারা খুলনা ও বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। এসময় তারা একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রী গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটিটি ওয়ান শুটার, দুটি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ০৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের নিকট জমা প্রদান করে। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহদীন জানান, সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জেলেকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এর আগে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন দস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে বলেও জানান তিনি। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



















