ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি

Dauler Hossen
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 17

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের একাধিকবার সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। হামলায় সাংবাদিকসহ বিজিবির একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।

সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ধাওয়া দেন। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে বিজিবির এক সদস্য আহত হন।

অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং আগুন দেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় টিভির প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসন হামলার শিকার হন। তাঁদের ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়। এর আগে ও পরে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর এবং মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে রোববার সকাল থেকেই গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন তাঁরা। একপর্যায়ে শত শত শ্রমিক লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা।

রোববার গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া বাংলাবাজার এলাকায় আম্বার ফ্যাশন, লাইলা ফ্যাশনসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতির কারণে কালিয়াকৈর, চন্দ্রা, কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিকেরা জানান, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তাঁরা আন্দোলন করছেন। শনিবার রাতেও চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ ও আনসার একাডেমির ৩ নম্বর ফটক এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, সোমবারও শ্রমিকেরা বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরে দশ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিজিবির সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
মোঃ দেলোয়ার হোসেন

মোঃ দেলোয়ার হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি

প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের একাধিকবার সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। হামলায় সাংবাদিকসহ বিজিবির একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।

সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ধাওয়া দেন। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে বিজিবির এক সদস্য আহত হন।

অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং আগুন দেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় টিভির প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসন হামলার শিকার হন। তাঁদের ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়। এর আগে ও পরে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর এবং মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে রোববার সকাল থেকেই গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন তাঁরা। একপর্যায়ে শত শত শ্রমিক লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা।

রোববার গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া বাংলাবাজার এলাকায় আম্বার ফ্যাশন, লাইলা ফ্যাশনসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতির কারণে কালিয়াকৈর, চন্দ্রা, কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিকেরা জানান, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তাঁরা আন্দোলন করছেন। শনিবার রাতেও চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ ও আনসার একাডেমির ৩ নম্বর ফটক এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, সোমবারও শ্রমিকেরা বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরে দশ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিজিবির সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।