ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউপি নির্বাচন ঘিরে তোড়জোড়, ১২ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা

MD.SHAH ALAM
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 29

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের ৪০ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। সে হিসাবে ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি নভেম্বর মাস থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

পাঁচ ধাপে হবে নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের ১৩তম কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে নির্বাচনের এ সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানান, দেশে আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে তিন বাহিনী

নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। তবে প্রথম ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। নির্বাচনে সহিংসতা বেড়ে গেলে পরবর্তী ধাপগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এবার এমন পরিস্থিতি এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সহযোগিতা চাওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে।

ইউপিতে ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী কেন্দ্র ৪২৫টি। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬টি, পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ২০২টি এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৭ লাখের বেশি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন।

নতুন আচরণবিধিতে কঠোর অবস্থানে ইসি

নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধিমালায় প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দসীমা নির্ধারণ, বিলবোর্ড ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচার, ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ ব্যয় বা বলপ্রয়োগ এবং নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি করার বিষয়েও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে জরিমানা এমনকি প্রার্থিতা বাতিলের মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

দলীয় প্রতীক না থাকায় বাড়তে পারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ফলে একই রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দলীয় প্রতীক না থাকায় অনেক এলাকায় একই দলের একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে। এতে নির্বাচনি মাঠে পেশিশক্তির প্রভাব ও সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা করেছে কমিশন।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে জনপ্রতিনিধিহীন স্থানীয় সরকার

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৫ হাজার ৪৯৭টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩১টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদ।

২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। এর ফলে দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভোটারদের জন্য অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
মো.শাহ আলম

মো.শাহ আলম

উপজেলা প্রতিনিধি, ঈদগাঁও, কক্সবাজার

ইউপি নির্বাচন ঘিরে তোড়জোড়, ১২ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা

প্রকাশের সময় : ০৮:২৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের ৪০ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। সে হিসাবে ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি নভেম্বর মাস থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

পাঁচ ধাপে হবে নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের ১৩তম কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে নির্বাচনের এ সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানান, দেশে আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে তিন বাহিনী

নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। তবে প্রথম ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। নির্বাচনে সহিংসতা বেড়ে গেলে পরবর্তী ধাপগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এবার এমন পরিস্থিতি এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সহযোগিতা চাওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে।

ইউপিতে ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী কেন্দ্র ৪২৫টি। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬টি, পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ২০২টি এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৭ লাখের বেশি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন।

নতুন আচরণবিধিতে কঠোর অবস্থানে ইসি

নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধিমালায় প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দসীমা নির্ধারণ, বিলবোর্ড ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচার, ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ ব্যয় বা বলপ্রয়োগ এবং নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি করার বিষয়েও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে জরিমানা এমনকি প্রার্থিতা বাতিলের মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

দলীয় প্রতীক না থাকায় বাড়তে পারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ফলে একই রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দলীয় প্রতীক না থাকায় অনেক এলাকায় একই দলের একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে। এতে নির্বাচনি মাঠে পেশিশক্তির প্রভাব ও সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা করেছে কমিশন।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে জনপ্রতিনিধিহীন স্থানীয় সরকার

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৫ হাজার ৪৯৭টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩১টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদ।

২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। এর ফলে দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভোটারদের জন্য অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।