০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিষমুক্ত বেগুন চাষে খলিলের সাফল্য, অন্য কৃষকদের দেখাচ্ছেন নতুন স্বপ্ন

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৩ Time View

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে এক একর জমিতে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান। এরই মধ্যে ক্ষেত থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন তিনি। আরও পাঁচ মাস পরিচর্যা করলে আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করছেন খলিল।
খলিলের ক্ষেতে দুই-এক দিন পরপর ৮ থেকে ৯ মণ বেগুন সংগ্রহ হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব বেগুন যাচ্ছে আশপাশের উপজেলাতেও। কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন তিনি। পোকামাকড় দমনে ক্ষেত ঘিরে সূক্ষ্ম জাল দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহার করছেন সেক্স ফেরোমন, কিউট্রাক, ট্রাইকোডার্মা ও স্টিকি ইয়েলো কার্ড। মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও আগাছা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করেছেন মালচিং পেপার। এতে সেচ খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে খলিল চাষ করেছেন ‘চক্র বিএন ৪২২’, ‘নবকিরণ’, ‘ভিএনআর ২১২’ ও ‘গ্রিনবল’ জাতের বেগুন। তাঁর দাবি, এসব জাত আগাম ফলন দেয় এবং দীর্ঘদিন গাছে ফল ধরে।
মনিরামপুর বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “খলিলের বেগুন বিষমুক্ত হওয়ায় স্বাদ ভালো। বাজারে এর চাহিদা ও দামও বেশি।”
মনিরামপুর পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, “কৃষি অফিসের পরামর্শে আধুনিক ও জৈব পদ্ধতি গ্রহণ করায় খলিল সাফল্য পেয়েছেন। তাঁকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন শাহানাজ বলেন, “খলিলের সাফল্য দেখে অনেক কৃষক বেগুন চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।” খলিলের ক্ষেত দেখতে এখন আশপাশের কৃষকেরা ভিড় করছেন। হায়দার আলী, মোবারক হোসেন, আকরাম হোসেন ও রফিক উদ্দীনসহ স্থানীয় অনেক কৃষক একই পদ্ধতিতে বেগুন চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মনিরামপুর উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি এসএম হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষমুক্ত বেগুন চাষ খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষিরও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাঁর উদ্যোগ অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বিষমুক্ত বেগুন চাষে খলিলের সাফল্য, অন্য কৃষকদের দেখাচ্ছেন নতুন স্বপ্ন

Update Time : ১২:৪৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে এক একর জমিতে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান। এরই মধ্যে ক্ষেত থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন তিনি। আরও পাঁচ মাস পরিচর্যা করলে আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করছেন খলিল।
খলিলের ক্ষেতে দুই-এক দিন পরপর ৮ থেকে ৯ মণ বেগুন সংগ্রহ হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব বেগুন যাচ্ছে আশপাশের উপজেলাতেও। কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন তিনি। পোকামাকড় দমনে ক্ষেত ঘিরে সূক্ষ্ম জাল দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহার করছেন সেক্স ফেরোমন, কিউট্রাক, ট্রাইকোডার্মা ও স্টিকি ইয়েলো কার্ড। মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও আগাছা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করেছেন মালচিং পেপার। এতে সেচ খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে খলিল চাষ করেছেন ‘চক্র বিএন ৪২২’, ‘নবকিরণ’, ‘ভিএনআর ২১২’ ও ‘গ্রিনবল’ জাতের বেগুন। তাঁর দাবি, এসব জাত আগাম ফলন দেয় এবং দীর্ঘদিন গাছে ফল ধরে।
মনিরামপুর বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “খলিলের বেগুন বিষমুক্ত হওয়ায় স্বাদ ভালো। বাজারে এর চাহিদা ও দামও বেশি।”
মনিরামপুর পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, “কৃষি অফিসের পরামর্শে আধুনিক ও জৈব পদ্ধতি গ্রহণ করায় খলিল সাফল্য পেয়েছেন। তাঁকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন শাহানাজ বলেন, “খলিলের সাফল্য দেখে অনেক কৃষক বেগুন চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।” খলিলের ক্ষেত দেখতে এখন আশপাশের কৃষকেরা ভিড় করছেন। হায়দার আলী, মোবারক হোসেন, আকরাম হোসেন ও রফিক উদ্দীনসহ স্থানীয় অনেক কৃষক একই পদ্ধতিতে বেগুন চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মনিরামপুর উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি এসএম হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষমুক্ত বেগুন চাষ খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষিরও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাঁর উদ্যোগ অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।”