১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ: এলজিইডির প্রকৌশলী বরখাস্ত, শোকজ ২ জনকে
- Update Time : ০৪:২১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪ Time View

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সংস্থাটির আরও দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শোকজ পাওয়া অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন—টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান। তাঁদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প ও অনিয়মের চিত্র
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ করছে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন’ ও ‘মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ’।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এ কাজের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যেই ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে লোহার রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা
এলজিইডির অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত ও নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি সেতুটির মূল কাঠামো ও অন্যান্য অংশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে এলজিইডি সদর দপ্তর থেকে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




















