আশাশুনির নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের নাজুক অবস্থায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত।।ছাদের ঢালাই খসে আহত রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী
- Update Time : ১২:৫৫:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৪ Time View

শাহিদুল ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি।।
আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নাজুক হয়ে পড়েছে। ছাদের ঢালাইয়ের বিভিন্ন অংশ খসে পড়ায় সেবা প্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতাদের ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ভবনের দুটি কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় বর্তমানে বারান্দায় বসেই সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া কালিবাড়ী বাজার সংলগ্ন স্থানে ১৯৯৮ সালে নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনটি নির্মাণ ও উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘ ২৭-২৮ বছর ব্যবহারের পর ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০-১২ বছর আগে রূপান্তরসহ দুটি এনজিওর উদ্যোগে ভবনটির রং, কিছু টাইলস স্থাপনসহ সংস্কারমূলক কাজ করা হয়েছিল। সে সময় ভবনটির পরিবেশ বেশ ভালো ছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ছাদের বিভিন্ন অংশের ঢালাই ভেঙে খসে পড়ছে।
ইতোমধ্যে ছাদের ঢালাইয়ের অংশ খসে পড়ে একজন নারী সেবাগ্রহীতা ও স্বাস্থ্য সহকারী গৌরাঙ্গ সরকার আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কয়েকবার ছাদের অংশ খসে পড়লেও অল্পের জন্য দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
ভবনের দুটি কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে বারান্দায় বসে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে বারান্দার ছাদের অবস্থাও ভালো নয়। ছাদের বিভিন্ন স্থানে ঢালাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রয়েছে।
এ ছাড়া ভবনের দেয়াল ও পিলারের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা-জানালার গ্রিল ও রডে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ভবনটির সামগ্রিক অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
টিকাদান কার্যক্রমের সময়ও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভবনের অবস্থা দেখে শিশুদের মায়েরা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এ কারণে শিশু ও অভিভাবকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাশের ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে সাময়িকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, জরাজীর্ণ ভবনটির অবস্থা দেখতে কয়েক বছর আগে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেছেন। নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি।
দায়িত্বরত স্বাস্থ্য সহকারী সঞ্জয় কুমার মন্ডল বলেন, “আমরা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছি। সেবা গ্রহীতা ও আমরা সব সময় ভবনের অবস্থা নিয়ে চিন্তিত থাকি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হয়েছে। কবে নতুন ভবন হবে, তা বুঝতে পারছি না।”
শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীপংকর বাছাড় দীপু বলেন, “ক্লিনিক ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। বিভিন্ন জায়গায় ধসে পড়ছে। আজ সকালেও ছাদের অংশ খসে পড়েছে। ক্লিনিকে রোগীর চাপও বেশি। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আমরা ইউএনও মহোদয়ের কাছে আবেদন করেছি। সংসদ সদস্য মহোদয়ও ক্লিনিকটি দেখে গেছেন। আশা করছি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের জরাজীর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও প্রদান করতে পারবেন।##



















