০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে খুন্তির ছ্যাঁকা, শিক্ষক গ্রেপ্তার

গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে খুন্তির ছ্যাঁকা, শিক্ষক গ্রেপ্তার

রিপোর্টার খাইরুল বাশার
  • Update Time : ১২:৫১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১২ Time View

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার জাঝড় সাক্রাউরী এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরের পর আগুনে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
​গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের নাম মাওলানা শোয়াইব আহাম্মদ (২৬)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার চর মুহুরী এলাকার মাওলানা ওহিস উদ্দিন আহমদের ছেলে এবং সাক্রাউরী এলাকার “আল-মাদ্রাসাতু দারুদ তাকওয়া” মাদ্রাসার শিক্ষক।
​ঘটনার বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসার মাঠে খেলার সময় দুর্ঘটনাবশত অন্য এক সহপাঠীর পায়জামা খুলে যায়। ওই ছাত্র বিষয়টি শিক্ষক শোয়াইব আহাম্মদের কাছে বিচার চাইলে তিনি শিশু বায়েজীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালান।
​ভুক্তভোগী বায়েজীদের বাবা মো. নাজমুল মিয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক বায়েজীদকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে শরীর নীলাফোলা জখম করেন। একপর্যায়ে আগুনে গরম করা লোহার খুন্তি দিয়ে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
​যেভাবে প্রকাশ্যে আসে নির্যাতন
গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে বায়েজীদ বাসায় ফিরলে তার হাঁটা ও বসায় অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। প্রথমে ভয়ে সে নিতম্বে ফোঁড়া হয়েছে বলে জানালেও পরদিন (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষতস্থানে মলম লাগাতে গিয়ে বাবা পোড়ার স্পষ্ট দাগ দেখতে পান। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনা বিস্তারিত জানায়।
​নাজমুল মিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে কারণ জানতে চাইলে উক্ত শিক্ষক কোনো সদুত্তর না দিয়ে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে গুরুতর আহত বায়েজীদকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
​আইনগত ব্যবস্থা
ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাক্রাউরীর মুন্সি মার্কেট এলাকা থেকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
​গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, ভিকটিম শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে খুন্তির ছ্যাঁকা, শিক্ষক গ্রেপ্তার

গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে খুন্তির ছ্যাঁকা, শিক্ষক গ্রেপ্তার

Update Time : ১২:৫১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার জাঝড় সাক্রাউরী এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরের পর আগুনে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
​গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের নাম মাওলানা শোয়াইব আহাম্মদ (২৬)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার চর মুহুরী এলাকার মাওলানা ওহিস উদ্দিন আহমদের ছেলে এবং সাক্রাউরী এলাকার “আল-মাদ্রাসাতু দারুদ তাকওয়া” মাদ্রাসার শিক্ষক।
​ঘটনার বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসার মাঠে খেলার সময় দুর্ঘটনাবশত অন্য এক সহপাঠীর পায়জামা খুলে যায়। ওই ছাত্র বিষয়টি শিক্ষক শোয়াইব আহাম্মদের কাছে বিচার চাইলে তিনি শিশু বায়েজীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালান।
​ভুক্তভোগী বায়েজীদের বাবা মো. নাজমুল মিয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক বায়েজীদকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে শরীর নীলাফোলা জখম করেন। একপর্যায়ে আগুনে গরম করা লোহার খুন্তি দিয়ে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
​যেভাবে প্রকাশ্যে আসে নির্যাতন
গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে বায়েজীদ বাসায় ফিরলে তার হাঁটা ও বসায় অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। প্রথমে ভয়ে সে নিতম্বে ফোঁড়া হয়েছে বলে জানালেও পরদিন (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষতস্থানে মলম লাগাতে গিয়ে বাবা পোড়ার স্পষ্ট দাগ দেখতে পান। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনা বিস্তারিত জানায়।
​নাজমুল মিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে কারণ জানতে চাইলে উক্ত শিক্ষক কোনো সদুত্তর না দিয়ে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে গুরুতর আহত বায়েজীদকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
​আইনগত ব্যবস্থা
ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাক্রাউরীর মুন্সি মার্কেট এলাকা থেকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
​গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, ভিকটিম শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।