এডিসের কামড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক: হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, সমন্বিত উদ্যোগ ও সচেতনতার তাগিদ
- Update Time : ০৮:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১১ Time View

দেশজুড়ে আবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম-পরবর্তী সময়ে এডিস মশার ব্যাপক বিস্তার এবং বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি ২০২৬ সালে দেশজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭,৩৬৭ জনে এবং এ পর্যন্ত ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেবল শেষ ২৪ ঘণ্টাতেই ১,৮৭৬ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন।
উপচে পড়ছে হাসপাতাল, সেপ্টেম্বরে রেকর্ড সংক্রমণ
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। রোগী সামলাতে রাজধানীসহ দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রশিক্ষণ, তবুও বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে চিকিৎসা খাতে।
সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল স্বাস্থ্য খাতের একার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, শহর-গ্রাম পরিচ্ছন্ন রাখা, কার্যকর নজরদারি, ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সঠিক চিকিৎসা—এই সব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে জোরদার করা জরুরি।
যেখানে জমে পানি, সেখানেই প্রজনন ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসাবাড়ির চারপাশে ফেলে রাখা প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, ভবনের ছাদ এবং ড্রেনে জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার প্রধান বংশবিস্তারের স্থান। তাই নিজ নিজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারও সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গুবিরোধী প্রচার-প্রচারণা বেগবান করেছে।
প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি সচেতনতা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে।
বাড়ি ও চারপাশ সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখা।
দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা।
ফুল হাতা পোশাক পরা এবং মশা তাড়ানোর লোশন ব্যবহার করা।
জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও রক্ত পরীক্ষা করানো।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। আতঙ্ক না ছড়িয়ে সম্মিলিত পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসাই পারে মূল্যবান প্রাণহানি রোধ করতে।



















