ডিমলায় বাড়তি দামে তেল বিক্রির প্রতিবাদ করায় ফিলিং স্টেশন মালিকের হামলায় আহত ২, পাম্পের কার্যক্রম স্থগিত
- Update Time : ০৩:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫ Time View

নীলফামারীর ডিমলায় তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং পরবর্তীতে বাড়তি দামে বিক্রির প্রতিবাদ করায় গ্রাহকদের ওপর ফিলিং স্টেশন মালিকের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মালিকের লোহার অ্যাঙ্গেলের আঘাতে দুই গ্রাহক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত মাহবুবুর রহমান (২৭) নামের এক যুবককে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ‘মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে’ এ ঘটনা ঘটে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিলিং স্টেশনটির যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রাহকদের সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে সরকারের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের ঘোষণার পরপরই মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাত ১২টা থেকে নতুন দর কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ১০টা থেকেই পাম্পের কর্মচারীরা তেল বিক্রি বন্ধ করে দেন। সে সময় মূল ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পাম্পের ডিজিটাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। রাত ১২টার পর বর্ধিত মূল্যে তেল বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে পাম্পের প্রোপাইটর মো. শাহ আলমের নির্দেশেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে প্রোপাইটর শাহ আলম এসে মেশিনে নতুন দাম নির্ধারণ শুরু করলে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা প্রতিবাদ জানান এবং আগের মূল্যে তেল সরবরাহের দাবি তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে একটি ভারী লোহার অ্যাঙ্গেল এনে গ্রাহকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে আব্দুল কাদের ও মাহবুবুর রহমান রক্তাক্ত হন।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ডিমলা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনটির সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পাম্পের প্রোপাইটর মো. শাহ আলম দাবি করেন, “পাম্পে পূর্বের দামে কেনা পর্যাপ্ত পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুত ছিল। তবে বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি থাকায় সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। উল্টো গ্রাহকেরাই আমাদের কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত শাহ আলম সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাজার অস্থিতিশীল করা ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই সংকট ও অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ঘটনার পর মেসার্স আলম ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স বাতিলসহ অভিযুক্ত শাহ আলমকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।



















