পার্বতীপুরে নাতির সিটে বসা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা: দাদীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ
- Update Time : ০৬:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৩ Time View

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সরকারপাড়া মনসুরিয়া মাদ্রাসার ক্যান্টিনে নাতির বসার সিটকে কেন্দ্র করে শেফালী বেগম (৪৫) নামে এক বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর স্বামীকে গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়ার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহমান (১০) প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় গিয়ে খাবার ক্যান্টিনে বসে। সেখানে সিটে বসাকে কেন্দ্র করে তার সহপাঠীর বাবার সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সরকারপাড়া গ্রামের এনতাজের ছেলে সিরাজ (৪৫) ছাত্র আব্দুর রহমানের দাদী শেফালী বেগমকে মারধর করেন। হামলায় তার হাতের আঙুলে মারাত্মক আঘাত লাগে।
ভুক্তভোগী শেফালী বেগম অভিযোগ করে বলেন, সিরাজ তাকে জনসম্মুখে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেছেন এবং তার স্বামীকে রাস্তাঘাটে পেলে গুম ও হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেফালী বেগমের স্বামী মন্জুরুল ইসলাম (৫৭) বলেন, “আমি ১৯৮৬ সাল থেকে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। আমেরিকান ক্যাম্পে ২০ বছর ধরে দুই ছেলে, দুই বউ ও দুই নাতি নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমার স্ত্রীর গায়ে কেন হাত তোলা হলো? দুইদিন ধরে স্থানীয় মেম্বার ও নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো বিচার পাচ্ছি না। আমরা গরীব বলে কি বিচার পাবো না? আমি এই অন্যায়ের সঠিক ও ন্যায়বিচার চাই।”
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা লিয়ন (২৬) ও মাসুদ (২৫) বলেন, “একজন মহিলা মানুষের গায়ে হাত তোলা চরম অন্যায় কাজ। অভিযুক্ত সিরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে মনসুরিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ঘটনার সময় আমি মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলাম না, তবে বিষয়টি পরবর্তীতে শুনেছি। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



















