ফুলবাড়ীতে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে মাদকাসক্ত, ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ
- Update Time : ০৭:১৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬ Time View

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। এলাকা জুড়ে এখন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিষাক্ত নিঃশ্বাসে পরিস্থিতি ভারী হয়ে উঠছে। ফলে উপজেলার অনেক সম্ভাবনাময় ও কৃতী সন্তানের ভবিষ্যৎ বিলুপ্ত হতে বসেছে অসাধু ও বিপথগামী চক্রের অশুভ তৎপরতায়।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, দরিদ্র পিতা-মাতার ঘাম ঝরানো উপার্জনে পড়াশোনা কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে আসা তরুণরা দিন দিন জড়িয়ে পড়ছে মাদকের মরণনেশায়। নেশার কবলে পড়ে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাজা প্রাণগুলো। পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা যেকোনো অপকর্মে লিপ্ত হতে দ্বিধা করছে না। স্বজনরা সামাজিক সম্মান রক্ষায় তাদেরকে পথ ফেরানোর চেষ্টা করলেও সামাজিকভাবে চরম হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
উপজেলায় মাদকসেবীদের পাশাপাশি বেড়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। তাদের ছত্রছায়ায় ফুলবাড়ী পৌর শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে মাদক এখন হাতের নাগালে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ওপার থেকে অনায়াসেই চোরাই পথে আসছে মদ, গাজা, ফেনসিডিল, ঘুমের বড়ি, প্যাথেডিন, অ্যালকোহল, ইয়াবা (বাবা) ও প্রাণঘাতী হিরোইনসহ নানা পদের মাদকদ্রব্য। মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বৈধ ব্যবসা বা পেশার ছদ্মবেশে এসব মরণনেশা ছড়িয়ে দিচ্ছে তরুণদের মাঝে। বিশেষ করে কম দামি ও সহজলভ্য মাদকগুলোর মূল ক্রেতা উঠতি বয়সের কিশোর ও তরুণরা।
বর্তমানে উপজেলার পশ্চিম গৌরীপাড়া, কাজীবাড়ী রোড, পার্বতীপুর রোড, চকচকা, চক সাহাবাজপুর, মধ্য কাঁটাবাড়ী, বারোকোনা, কানাহার, মহেশপুর, গাধাপাড়া, উত্তর সুজাপুর, শিবনগর, কাজীহাল, এলুয়ারী, আলাদীপুর, বেতদিঘী, খয়েরবাড়ী, দৌলতপুরসহ ফুলবাড়ী পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে দেশি চোলাই মদসহ রকমারি মাদকের বেচাকেনা চলছে অবাধে।
এ পরিস্থিতিতে তরুণ ও যুবসমাজকে এই ভয়াবহ মরণনেশার হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ, নিয়মিত মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রসাশনের পক্ষ থেকে কঠোর ও সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন অভিভাবক ও সুশীল সমাজ।
(নোট: মূল লেখার শেষে বাক্যটি অসম্পূর্ণ ছিল, তাই সংবাদের ধারাবাহিকতা ও ভাব বজায় রেখে সমাপ্তি অংশটি প্রাসঙ্গিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে।)



















