০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি :
  • Update Time : ১১:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৪ Time View

বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামো ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না। তিনি বলেছেন, বন্দরের উন্নয়নে নতুন এক্সেস প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল, নিরাপত্তা এবং নজরদারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের ১ নম্বর শেড থেকে পরিদর্শন শুরু করেন চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না। পরে তিনি বন্দরের ৩১ নম্বর শেড পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় বন্দরের অবকাঠামো, পণ্য ওঠানামার স্থান, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না। তিনি বলেন, “বেনাপোল বন্দরে একটা বিশাল চেঞ্জ হবে। বন্দরের জন্য নতুন একটি এক্সেস প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোথায় কী করা হবে, সেটির একটি ম্যাপও করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।” তিনি বলেন, “পুরো বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। বৃষ্টির পানি ও অন্যান্য কারণে যাতে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।” শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “বন্দরের শ্রমিকদের জন্য একটি হাসপাতাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। যারা প্রতিদিন বন্দরে কাজ করেন, তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।” নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, “বেনাপোল বন্দরে শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পুরো বন্দরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এতে বন্দরের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে থাকবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।” বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ সকলকে সৎ হতে হবে। কেউ কোনো ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।” চেয়ারম্যানের এ পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন হাওলাদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আনিসুল হক, সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ, আব্দুল হান্নান ও সঞ্জয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বেনাপোল স্থল বন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের ৯২৫-এর সভাপতি তবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলীসহ বন্দরের সংশ্লিষ্ট শ্রমিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান বন্দরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না

Update Time : ১১:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামো ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না। তিনি বলেছেন, বন্দরের উন্নয়নে নতুন এক্সেস প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল, নিরাপত্তা এবং নজরদারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের ১ নম্বর শেড থেকে পরিদর্শন শুরু করেন চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না। পরে তিনি বন্দরের ৩১ নম্বর শেড পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় বন্দরের অবকাঠামো, পণ্য ওঠানামার স্থান, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না। তিনি বলেন, “বেনাপোল বন্দরে একটা বিশাল চেঞ্জ হবে। বন্দরের জন্য নতুন একটি এক্সেস প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোথায় কী করা হবে, সেটির একটি ম্যাপও করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।” তিনি বলেন, “পুরো বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। বৃষ্টির পানি ও অন্যান্য কারণে যাতে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।” শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “বন্দরের শ্রমিকদের জন্য একটি হাসপাতাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। যারা প্রতিদিন বন্দরে কাজ করেন, তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।” নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, “বেনাপোল বন্দরে শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পুরো বন্দরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এতে বন্দরের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে থাকবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।” বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ সকলকে সৎ হতে হবে। কেউ কোনো ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।” চেয়ারম্যানের এ পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন হাওলাদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আনিসুল হক, সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ, আব্দুল হান্নান ও সঞ্জয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বেনাপোল স্থল বন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের ৯২৫-এর সভাপতি তবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলীসহ বন্দরের সংশ্লিষ্ট শ্রমিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান বন্দরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন।