ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন
- Update Time : ০৫:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১২ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি)-র দাবিতে বিশাল মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া বাজার এলাকায় ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সরাইল, নোয়াগাঁও ও বাড়িউড়ার সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শত শত সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে এতে অংশ নেন। বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার পৈশাচিক প্রেক্ষাপট ও বিবরণ
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর রাতে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের একটি মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিল শুনতে বাড়ি থেকে বের হয় ওই কিশোরী। পথিমধ্যে ওঁৎ পেতে থাকা স্থানীয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নদীর তীরবর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে জাকির মিয়া, নাঈম ও সোহাগ মিয়া তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ সময় মামলার অন্য আসামিরাও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে বাড়িউড়ায় তার নিজ বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। কিন্তু ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে গত ১৫ অক্টোবর তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার ১০ দিন পর, ১৭ অক্টোবর রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
আসামিদের পরিচয় ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি
মামলার এজাহার অনুযায়ী অভিযুক্তরা হলো—
জাকির মিয়া (পলাতক)
নাঈম (গ্রেপ্তারকৃত)
সোহাগ মিয়া (পলাতক)
মোকলেছ মিয়া (পলাতক)
আলামিন ওরফে জিকিরি (পলাতক)
বাহার মিয়া (গ্রেপ্তারকৃত)
স্থানীয়দের তীব্র অভিযোগ, অভিযুক্তদের একটি বড় অংশ এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন,
“সমাজে অবাধ মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আজ আমাদের কন্যাসন্তান ও বোনেরা ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। এই পৈশাচিক ঘটনার সাথে জড়িত প্রতিটি অপরাধীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি বাহার মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপর অভিযুক্ত নাঈমকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















