মোংলায় মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ফাদার মারিনো রিগনের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
- Update Time : ০৬:০০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮ Time View

মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু, ইতালীয় নাগরিক, বিশিষ্ট কবি ও লেখক ফাদার মারিনো রিগনের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলেক্ষে বাগেরহাটের মোংলায় শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, র্যালি ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া এলাকায় ‘ফাদার মারিনো রিগন মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন কমিটি’র উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে ফাদার রিগনের সমাধি প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট পলস ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল।
স্মরণ সভায় বক্তারা ফাদার রিগনের কর্মময় জীবন ও সমাজসেবামূলক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন। এতে বক্তব্য দেন:
মো. নূর আলম শেখ (সভাপতি, মোংলা নাগরিক সমাজ ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান)
ফ্রান্সিস সুদান হালদার (সাবেক প্রধান শিক্ষক, সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়)
মনীন্দ্রনাথ হালদার
চিরঞ্জিত সরকার (সহকারী প্রধান শিক্ষক)
মিনা হালদার (নির্বাহী পরিচালক, সেবা সংস্থা)
জানে আলম বাবু (উদয়ন সমাজ সংঘ)
মোল্লা আল মামুন (সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি)
সঞ্জয় সরদার, হিউবার্ট সরদার ও পলাশ হালদার।
সভা শেষে সেন্ট পলস ধর্মপল্লী, সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, মোংলা নাগরিক সমাজ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও সেবা সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ফাদার রিগনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এলাকা জুড়ে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
এক নজরে ফাদার মারিনো রিগনের অবদান:
শিক্ষা ও চিকিৎসা: ফাদার মারিনো রিগন মোংলা অঞ্চলে বিখ্যাত ‘সেন্ট পলস স্কুল’ সহ ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেন্ট পলস হাসপাতাল এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলেন।
সমাজসেবা ও সংস্কৃতি: দীর্ঘ ৫০ বছর যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি এ দেশের শিক্ষা, সমাজ উন্নয়ন এবং সংস্কৃতির বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রাখেন।
স্বীকৃতি: বাংলাদেশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সম্মানিত নাগরিকত্ব প্রদান করে এবং ২০১২ সালে তিনি পান মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ইতালিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই মহান মানবতাবাদী। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, মৃত্যুর এক বছর পর বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় ইতালি থেকে তার মরদেহ দেশে এনে মোংলার শেলাবুনিয়ায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করে।



















