০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪: টাস্কফোর্সের অভিযানে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

​মোঃ বাদশা মিয়া সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৫:৫২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫৪ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে অভিযান চালিয়ে ১৯০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
​বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর, ২০২৬) বিজয়নগর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রাম এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
​ডিএনসি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি দল বিজয়নগরের লক্ষীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে চারজনকে আটক করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে মোট ১৯০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:
১. আব্দুল হামিদ (৫৫), পিতা: মৃত রহমত আলী
২. চাচ্চু মিয়া (৫৫), পিতা: মৃত ধন মিয়া খন্দকার
৩. টিটু সরকার (২০), পিতা: পন্ডিত সরকার
৪. মানিক মিয়া (৩৫), পিতা: মৃত আব্দুল মোন্নাফ মিয়া
​আটকের পর আসামিদের বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ঘটনার সত্যতা ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আটক চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত সাজা প্রদান করেন।
​অনুসন্ধানী প্রেক্ষাপট ও সীমান্ত পথের সমীকরণ:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলাটি ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ চক্র এই অঞ্চলটিকে মাদক চোরাচালানের প্রধান ‘রুট’ বা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সীমান্ত পাড় হয়ে আসা বড় মাদকের চালানগুলো স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রবীণ থেকে শুরু করে ২০ বছর বয়সী তরুণ টিটু সরকারের উপস্থিতি নির্দেশ করে—এই অঞ্চলে মাদক চেইন বজায় রাখতে কীভাবে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদেরও জড়াচ্ছে অপরাধ চক্রগুলো। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বল্প পরিমাণের গাঁজা উদ্ধার হলেও নিয়মিত এসব খুচরা ও মাধ্যম পর্যায়ের অভিযানের মাধ্যমে সীমান্ত থেকে আসা মাদকের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক সাজেদুল হাসান জানান, জেলাজুড়ে মাদক নির্মূলে টাস্কফোর্স ও ডিএনসির এ ধরণের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সীমান্ত এলাকাসহ পুরো জেলায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
​কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিদের সাজা পরোয়ানা মূলে জেলা কারাগারে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪: টাস্কফোর্সের অভিযানে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

Update Time : ০৫:৫২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে অভিযান চালিয়ে ১৯০ গ্রাম গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
​বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর, ২০২৬) বিজয়নগর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রাম এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
​ডিএনসি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি দল বিজয়নগরের লক্ষীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে চারজনকে আটক করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে মোট ১৯০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:
১. আব্দুল হামিদ (৫৫), পিতা: মৃত রহমত আলী
২. চাচ্চু মিয়া (৫৫), পিতা: মৃত ধন মিয়া খন্দকার
৩. টিটু সরকার (২০), পিতা: পন্ডিত সরকার
৪. মানিক মিয়া (৩৫), পিতা: মৃত আব্দুল মোন্নাফ মিয়া
​আটকের পর আসামিদের বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ঘটনার সত্যতা ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আটক চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত সাজা প্রদান করেন।
​অনুসন্ধানী প্রেক্ষাপট ও সীমান্ত পথের সমীকরণ:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলাটি ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ চক্র এই অঞ্চলটিকে মাদক চোরাচালানের প্রধান ‘রুট’ বা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সীমান্ত পাড় হয়ে আসা বড় মাদকের চালানগুলো স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রবীণ থেকে শুরু করে ২০ বছর বয়সী তরুণ টিটু সরকারের উপস্থিতি নির্দেশ করে—এই অঞ্চলে মাদক চেইন বজায় রাখতে কীভাবে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদেরও জড়াচ্ছে অপরাধ চক্রগুলো। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বল্প পরিমাণের গাঁজা উদ্ধার হলেও নিয়মিত এসব খুচরা ও মাধ্যম পর্যায়ের অভিযানের মাধ্যমে সীমান্ত থেকে আসা মাদকের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক সাজেদুল হাসান জানান, জেলাজুড়ে মাদক নির্মূলে টাস্কফোর্স ও ডিএনসির এ ধরণের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সীমান্ত এলাকাসহ পুরো জেলায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
​কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিদের সাজা পরোয়ানা মূলে জেলা কারাগারে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।