০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক আশ্রয়ে মৌলভীবাজারে বেপরোয়া অটোরিকশা! সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

রিপোর্টার রাশেদ আহমদ
  • Update Time : ০৩:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১ Time View

মৌলভীবাজারের চৌমুহনা, কুসুমবাগ, শ্রীমঙ্গল রোড থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে এখন চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের প্রত্যক্ষ আশ্রয়ে এসব অটোরিকশা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবাধ চলাচলের পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ফলে একদিকে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে।

সারাদেশে চলমান লাখ লাখ অটোরিকশা চার্জ করতে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, যা দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশের সমান। মৌলভীবাজারের শহর ও গ্রামগঞ্জের অলিগলিতে অবস্থিত অবৈধ গ্যারেজগুলোতেও রাতারাতি চোরাই লাইনের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ টেনে নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় রাজনৈতিক নাম ভাঙিয়ে অবৈধ চার্জিং গ্যারেজ পরিচালনা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এসব অবৈধ সংযোগ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

গ্যারেজ ভাড়া, চড়া দামে ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ বিক্রি এবং সড়ক থেকে টোল আদায়ের নামে জেলাজুড়ে বছরে কোটি কোটি টাকার অনানুষ্ঠানিক অবৈধ বাণিজ্য চলছে। রাজনৈতিক আশ্রয় থাকার কারণে এসব অবৈধ গ্যারেজ ও ট্রাফিক আইন অমান্যকারী অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

অবৈধ চার্জিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ মিটারে কোনো হিসাব না থাকায় সরকার প্রতি বছর সারাদেশে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব হারাচ্ছে। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে মৌলভীবাজারসহ দেশের সাধারণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ গ্রাহকদের।

রাতে বিপুল পরিমাণ অটোরিকশা একসাথে চোরাই লাইনে চার্জ দেওয়ার কারণে গ্রিডের ওপর তীব্র চাপ পড়ে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

মৌলভীবাজারের সচেতন নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে অনতিবিলম্বে এসব অবৈধ গ্যারেজে অভিযান চালাতে হবে।

সড়কের বিশৃঙ্খলা কমানো, জাতীয় গ্রিডের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কোটি কোটি টাকার অপচয় বন্ধে দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা নিবন্ধন ও সৌরবিদ্যুৎচালিত চার্জিং ব্যবস্থার জোর দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রাজনৈতিক আশ্রয়ে মৌলভীবাজারে বেপরোয়া অটোরিকশা! সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

Update Time : ০৩:২৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের চৌমুহনা, কুসুমবাগ, শ্রীমঙ্গল রোড থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে এখন চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের প্রত্যক্ষ আশ্রয়ে এসব অটোরিকশা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবাধ চলাচলের পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ফলে একদিকে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে।

সারাদেশে চলমান লাখ লাখ অটোরিকশা চার্জ করতে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, যা দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশের সমান। মৌলভীবাজারের শহর ও গ্রামগঞ্জের অলিগলিতে অবস্থিত অবৈধ গ্যারেজগুলোতেও রাতারাতি চোরাই লাইনের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ টেনে নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় রাজনৈতিক নাম ভাঙিয়ে অবৈধ চার্জিং গ্যারেজ পরিচালনা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এসব অবৈধ সংযোগ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

গ্যারেজ ভাড়া, চড়া দামে ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ বিক্রি এবং সড়ক থেকে টোল আদায়ের নামে জেলাজুড়ে বছরে কোটি কোটি টাকার অনানুষ্ঠানিক অবৈধ বাণিজ্য চলছে। রাজনৈতিক আশ্রয় থাকার কারণে এসব অবৈধ গ্যারেজ ও ট্রাফিক আইন অমান্যকারী অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

অবৈধ চার্জিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ মিটারে কোনো হিসাব না থাকায় সরকার প্রতি বছর সারাদেশে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব হারাচ্ছে। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে মৌলভীবাজারসহ দেশের সাধারণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ গ্রাহকদের।

রাতে বিপুল পরিমাণ অটোরিকশা একসাথে চোরাই লাইনে চার্জ দেওয়ার কারণে গ্রিডের ওপর তীব্র চাপ পড়ে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

মৌলভীবাজারের সচেতন নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে অনতিবিলম্বে এসব অবৈধ গ্যারেজে অভিযান চালাতে হবে।

সড়কের বিশৃঙ্খলা কমানো, জাতীয় গ্রিডের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কোটি কোটি টাকার অপচয় বন্ধে দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা নিবন্ধন ও সৌরবিদ্যুৎচালিত চার্জিং ব্যবস্থার জোর দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।