রামুর চৌমুহনীতে ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের দাবি নিয়ে রহস্য: ৫ হাজার পিস গেল কোথায়?
- Update Time : ১১:৩৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪০ Time View

কক্সবাজারের রামু চৌমুহনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে দুই নারীর কাছ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেলেও, পরবর্তীতে নথিপত্রে ও হিসাবের গরমিলে মাত্র ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা সামনে এসেছে। আর এই হিসাবের ব্যবধান নিয়েই স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধারের দাবি করা মোট পরিমাণ এবং নথিবদ্ধ পরিমাণের মধ্যে ৫ হাজার পিস ইয়াবার গরমিল থাকায় এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
স্থানীয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে রামু চৌমুহনী এলাকায় মাদকবিরোধী একটি অভিযান পরিচালিত হয়। উক্ত অভিযানে দুই জন নারীকে আটক করে তাদের হেফাজত থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যায়ে জোরালো দাবি করা হয়।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আটকের পর থানায় হস্তান্তর কিংবা জব্দ তালিকায় সেই ইয়াবার সংখ্যা কমে ১৫ হাজার পিসে দাঁড়ায়। এই ৫ হাজার পিস ইয়াবা কোথায় হারিয়ে গেল বা কার কারসাজিতে সংখ্যাটি কমল, তা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।
সচেতন মহলের ক্ষোভ ও দাবি
এ বিষয়ে এলাকার একাধিক সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বা সংশ্লিষ্ট অভিযানের ভেতর থেকেই মাদক গায়েব বা কম দেখানোর ঘটনা ঘটে, তবে তা দেশের মাদকবিরোধী লড়াইকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
তাঁদের প্রধান প্রশ্নগুলো হলো:
অভিযانের সময় ঠিক কত পিস ইয়াবা প্রকৃতঅর্পে উদ্ধার করা হয়েছিল?
জব্দ তালিকার সঙ্গে প্রাথমিক দাবির ৫ হাজার পিস ইয়াবার এই ব্যবধানের দায় কার?
এই ঘটনার পেছনে কি কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে?
সংশ্লিষ্ট মহলের ভূমিকা ও তদন্তের দাবি
মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে এবং উদ্ধারকৃত মাদকের সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC) এবং উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনগণের দাবি, ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে যদি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় সাধারণ মানুষের মনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হতে পারে।




















