রায়গঞ্জে অটোরিকশাচালক হত্যা: ছিনতাই নয়, পারিবারিক বিরোধ; ২ বছর পর গ্রেপ্তার ছোট ভাই
- প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 15

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অটোরিকশাচালক কছিম উদ্দিন (৪৮) হত্যার প্রায় দুই বছর তিন মাস পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন ছোট ভাই ও মামলার প্রধান আসামি আব্দুল মালেক (৪৫) এবং তাঁর সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত কাকলী রানীকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নয়, দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে কছিম উদ্দিনকে হত্যা করা হয়।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছি এলাকা থেকে আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শনিবার (২৪ অক্টোবর) একই ঘটনায় অভিযুক্ত কাকলী রানীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, কাকলী প্রায় ১০ বছর ধরে নিমগাছি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই নিমগাছি এলাকায় অটোরিকশাচালক কছিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার পর তাঁর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের বিষয়টি সামনে আসায় হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তবে দীর্ঘ তদন্ত, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে অনুসন্ধানের পর হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনাটিকে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে দেখানোর বিষয়টি তদন্তে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ে। পরে তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অপর অভিযুক্ত কাকলী রানীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “অটোরিকশা ছিনতাই এ হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল না। দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধের জেরেই কছিম উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এতে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার আব্দুল মালেক আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের এ দাবি মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে ঘটনার বিস্তারিত, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং অন্য আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



















