১২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫৪ বছরেও বদলায়নি স্কুলের অবকাঠামো, ঝুঁকিতে ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

রিপোর্টার শাহিনুর ইসলাম
  • Update Time : ১১:৩৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৮ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি : দেয়ালজুড়ে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এমনই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন পাঠ নিচ্ছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের কড়ুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কার্যক্রম বাড়লেও পাঠদান চলছে পুরোনো ভবনেই। সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অনেক জায়গায় রড বেরিয়ে গেছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়। এতে পাঠদান যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবেরা খাতুন জানায়, অন্য স্কুলের সুন্দর ও নিরাপদ ভবন দেখে আমাদেরও এমন শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে ইচ্ছে করে। বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। তখন ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলে,পুরোনো এই ভবনে ক্লাস করার সময় সব সময় ভয় লাগে। কখন কী হয়, সেই চিন্তা থাকে। আমরা চাই, আমাদের স্কুলটিও নিরাপদ ও সুন্দর হোক।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরাও। তাঁদের অভিযোগ, ভবনটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাময়িক সংস্কার করে সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহম্মেদ বলেন, প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নিয়ে প্রতিদিন পাঠদান করানো অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। ভবনের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুধু চুনকাম বা জোড়াতালি দিয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়। নতুন ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবে বলে আশা করেন তিনি। এলাকাবাসী বলছেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির এমন দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনের ঝুঁকি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে জরাজীর্ণ ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিক। নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৫৪ বছরেও বদলায়নি স্কুলের অবকাঠামো, ঝুঁকিতে ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

Update Time : ১১:৩৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি : দেয়ালজুড়ে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এমনই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন পাঠ নিচ্ছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের কড়ুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কার্যক্রম বাড়লেও পাঠদান চলছে পুরোনো ভবনেই। সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অনেক জায়গায় রড বেরিয়ে গেছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়। এতে পাঠদান যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবেরা খাতুন জানায়, অন্য স্কুলের সুন্দর ও নিরাপদ ভবন দেখে আমাদেরও এমন শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে ইচ্ছে করে। বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। তখন ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলে,পুরোনো এই ভবনে ক্লাস করার সময় সব সময় ভয় লাগে। কখন কী হয়, সেই চিন্তা থাকে। আমরা চাই, আমাদের স্কুলটিও নিরাপদ ও সুন্দর হোক।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরাও। তাঁদের অভিযোগ, ভবনটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাময়িক সংস্কার করে সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহম্মেদ বলেন, প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নিয়ে প্রতিদিন পাঠদান করানো অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। ভবনের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুধু চুনকাম বা জোড়াতালি দিয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়। নতুন ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবে বলে আশা করেন তিনি। এলাকাবাসী বলছেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির এমন দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনের ঝুঁকি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে জরাজীর্ণ ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিক। নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য