দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার প্রতিনিধিদলের বৈঠক
- Update Time : ০১:৫০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩১ Time View

বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
সোমবার অনুষ্ঠিত এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের প্রধান বিষয়াগুলোর মধ্যে ছিল রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি বিকাশ, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন।
রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসন
বৈঠকে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জন্মভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।”
কানাডার প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ একমত পোষণ করেন এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
জ্বালানি, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে অংশীদারত্ব
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কানাডা তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা বাংলাদেশ সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
এ ছাড়া, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) সম্প্রসারণের পাশাপাশি উন্নত মানের নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে সহযোগিতা জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে কানাডীয় প্রতিনিধিদল।
কৃষি, ‘কৃষক কার্ড’ ও সামাজিক সুরক্ষা
কৃষি খাতে ডাল ও তৈলবীজ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ‘আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (CIMMYT)’ এর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা করেছে, যার মাধ্যমে কৃষকদের সঠিক ডেটাবেজ তৈরির পাশাপাশি সরাসরি সার ও বীজের মতো সরকারি প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। কানাডা এই উপাত্তভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়।
পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিগুলোকে একত্রিত করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দ্রুত দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব হবে।
জলবায়ু অর্থায়ন ও পরিবেশগত উদ্যোগ
বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মসূচি কানাডীয় প্রতিনিধিদলের কাছে প্রশংসিত হয়।
কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে কানাডা ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে, যা থেকে বাংলাদেশও প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হতে পারবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনায় সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কানাডা।
প্রবাসীদের প্রশংসা ও কানাডা সফরের আমন্ত্রণ
কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মদক্ষতা ও উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন রণদীপ সরাই। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, কানাডার সংসদে বর্তমানে দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
বৈঠকের সফল সমাপ্তিতে কানাডার প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।




















