এআই ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায়: ডিমলা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
- Update Time : ০৮:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২১ Time View

ঢাকার একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তির ভয়াবহ অপব্যবহার ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এক যুবককে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টনে ভরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে নিহতের ভুয়া ভিডিও ও কণ্ঠস্বর তৈরি করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরের পর ঢাকার একটি তদন্তকারী দল নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেওয়া স্থান থেকে রাকিব হোসেন (২২) নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদেমুল ইসলামের ছেলে। আর অভিযুক্ত প্রধান আসামির নাম মামুন রহমান (২৫), যার বাড়ি ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে রাকিব ও মামুনের মধ্যে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মামুন তা কৌশলে নিজের বাড়ি ডিমলার বালাপাড়ায় নিয়ে এসে মাটিচাপা দেন এবং পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসেন।
এর মধ্যেই রাকিবের নিখোঁজ হওয়া ও জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অপরাধীরা এক অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে রাকিবের কণ্ঠস্বর ও নড়াচড়া নকল করে ভিডিও তৈরি করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়, যেন মনে হয় রাকিব তখনও জীবিত রয়েছে।
এই ভুয়া ভিডিওর ফাঁদে পড়ে পরিবারের সদস্যরা ঘাতকদের কথামতো মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন।
পরিবারের সন্দেহের জেরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঢাকার একটি তদন্তকারী দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডিমলার বালাপাড়া ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়া এলাকা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার মামুনকে ঢাকার তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়ের এই ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এবং এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


















