০৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: ফুলবাড়ীতে ওসি শহীদুল ইসলামের সাঁড়াশি অভিযানে আতঙ্কে মাদক কারবারিরা

​সাজু আহমেদ (দিনাজপুর প্রতিনিধি)
  • Update Time : ০৭:২৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯ Time View

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোঃ শহীদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই শুরু হয়েছে কঠোর মাদকবিরোধী অভিযান। পুলিশের ধারাবাহিক ও জোরালো পদক্ষেপে একের পর এক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় উপজেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
​থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওসি শহীদুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক বেচাকেনা ও সেবন বন্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
​আগস্ট মাসের অভিযান: আগস্ট মাসে ১৬ জন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ১০টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়, আর বাকি দুই আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ১২৮ পিস ইয়াবা, ১৫ পুরিয়া হেরোইন এবং ১৮১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২২ জন মাদকসেবীকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
​সেপ্টেম্বর মাসের অভিযান: সেপ্টেম্বর মাসেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়। ওই মাসে ১৮ জন আসামির বিরুদ্ধে ১২টি নিয়মিত মাদক মামলা দিয়ে সকলকেই (১৮ জন) গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে ছিল ৩২৮ পিস ইয়াবা, ৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল, ১১২ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ বোতল ফেনসিডিল। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আরও ২৭ জন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
​ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল ইসলাম স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ফুলবাড়ীতে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান হবে না। বিগত সময়ে যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন, আমাদের চৌকস কর্মকর্তারা তাদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
​পুলিশের এমন ধারাবাহিক ও আপসহীন অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসছে। সাধারণ স্থানীয়দের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে ফুলবাড়ীতে দ্রুতই মাদক ব্যবসা ও সেবন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: ফুলবাড়ীতে ওসি শহীদুল ইসলামের সাঁড়াশি অভিযানে আতঙ্কে মাদক কারবারিরা

Update Time : ০৭:২৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোঃ শহীদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই শুরু হয়েছে কঠোর মাদকবিরোধী অভিযান। পুলিশের ধারাবাহিক ও জোরালো পদক্ষেপে একের পর এক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় উপজেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
​থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওসি শহীদুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক বেচাকেনা ও সেবন বন্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
​আগস্ট মাসের অভিযান: আগস্ট মাসে ১৬ জন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ১০টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়, আর বাকি দুই আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ১২৮ পিস ইয়াবা, ১৫ পুরিয়া হেরোইন এবং ১৮১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২২ জন মাদকসেবীকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
​সেপ্টেম্বর মাসের অভিযান: সেপ্টেম্বর মাসেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়। ওই মাসে ১৮ জন আসামির বিরুদ্ধে ১২টি নিয়মিত মাদক মামলা দিয়ে সকলকেই (১৮ জন) গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে ছিল ৩২৮ পিস ইয়াবা, ৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল, ১১২ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ বোতল ফেনসিডিল। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আরও ২৭ জন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
​ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল ইসলাম স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ফুলবাড়ীতে মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো স্থান হবে না। বিগত সময়ে যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন, আমাদের চৌকস কর্মকর্তারা তাদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
​পুলিশের এমন ধারাবাহিক ও আপসহীন অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসছে। সাধারণ স্থানীয়দের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে ফুলবাড়ীতে দ্রুতই মাদক ব্যবসা ও সেবন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।