সড়কে বাড়ছে অটোরিকশার চাপ, যানজটে স্থবির সিরাজগঞ্জ শহর।
- Update Time : ০৫:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৭ Time View

সিরাজগঞ্জ শহরের সড়কে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চাপ। পৌরসভার অনুমোদিত অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার হলেও বাস্তবে শহরের সড়কে চলাচল করছে এর প্রায় দ্বিগুণ যানবাহন। স্থানীয়দের দাবি, শহর ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না নগরবাসী।
সকাল হলেই শহরের প্রধান সড়কগুলোতে শুরু হয় অটোরিকশার ব্যস্ততা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে জমতে থাকে যানবাহন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তৈরি হয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিকেলে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
শহরের যানজটের পেছনে অতিরিক্ত অটোরিকশার পাশাপাশি চালকদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকেও দায়ী করছেন অনেকে। যাত্রী দেখলেই রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে দেওয়া, মোড়ের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো, পাশাপাশি কয়েকটি অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা এবং সুযোগ পেলেই উল্টো পথে চলাচলের কারণে সড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।
অনেক সময় একটি অটোরিকশা যাত্রী ওঠানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকলে তার পেছনে একের পর এক যানবাহন আটকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ছোট জট বড় আকার ধারণ করে। ব্যস্ত সড়কে এমন পরিস্থিতি দিনভর কয়েকবার তৈরি হওয়ায় যানজট এখন অনেকটা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শহরের বাইরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা ও ইজিবাইক প্রতিদিন শহরে প্রবেশ করছে। এসব যানবাহনের অনেকগুলো শহরের ভেতরে যাত্রী পরিবহন করায় নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় সড়কে গাড়ির চাপ অনেক বেশি থাকে।
একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখায় কমে যাচ্ছে চলাচলের জায়গা। কোথাও কোথাও রাস্তার একটি অংশ অটোরিকশার অস্থায়ী স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। ফলে পথচারীদেরও মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
শহরের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “আগে যে পথ অল্প সময়ে পার হওয়া যেত, এখন যানজটের কারণে সেখানে অনেক বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের সময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে চলাচল করা খুব কষ্টকর।”
আবু সাঈদ নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করলে এই সমস্যা আরও বাড়বে। অনেক চালক যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করান। এতে রাস্তা আটকে যায়। নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট জায়গায় যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করা দরকার।”
সিরাজগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরে প্রায় ৫ হাজার অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। তবে পৌরসভার নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে শহরের আশপাশের এলাকা থেকে আসা অটোরিকশা ও ইজিবাইকের কারণে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “পৌরসভা থেকে ৫ হাজার অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বাইরের এলাকা থেকে অটোরিকশা এবং মিশ্র যানবাহন শহরে প্রবেশ করায় যানজটের সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অননুমোদিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
নগরবাসীর প্রত্যাশা, শহরের যানজট নিরসনে শুধু অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করলেই হবে না; বাস্তবে কতগুলো যানবাহন শহরে ঢুকছে এবং কোথায় সেগুলো চলাচল করছে, সেটিও নজরদারির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড স্থাপন, যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা নিষিদ্ধ এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শহরের জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ফলে সিরাজগঞ্জ শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি নিয়মিত বাস্তবায়নও জরুরি।



















