০৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাড়াশে পুলিশের অভিযানে তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কে,এম রিমান ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৫:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১ Time View

মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকাতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে থানা পুলিশ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন—তাড়াশ উত্তরপাড়া এলাকার মো. গোলপ হোসেনের ছেলে মো. সেলিম রেজা (৩৫), জাংগীরাগাঁথী দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. আহের মুন্সির ছেলে মো. আসাদুল ইসলাম (২৯) এবং তাড়াশ উত্তরপাড়া এলাকার মো. হাছেন আলীর ছেলে মো. হাফিজুর রহমান (৩২)। তারা সবাই তাড়াশ থানার আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চান স্থানীয়রা।

পুলিশের এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্টদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

ওসি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানকে গুরুত্ব দিয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক একটি সামাজিক ও আইনগত সমস্যা। এর বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবারের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন হতে হবে। সন্দেহজনক মাদক কেনাবেচা বা সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাড়াশ থানার ওসি মো. ইমাম জাফর বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাড়াশ উপজেলায় মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার মূল উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে উপজেলায় মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

তাড়াশে পুলিশের অভিযানে তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

Update Time : ০৫:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকাতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে থানা পুলিশ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন—তাড়াশ উত্তরপাড়া এলাকার মো. গোলপ হোসেনের ছেলে মো. সেলিম রেজা (৩৫), জাংগীরাগাঁথী দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. আহের মুন্সির ছেলে মো. আসাদুল ইসলাম (২৯) এবং তাড়াশ উত্তরপাড়া এলাকার মো. হাছেন আলীর ছেলে মো. হাফিজুর রহমান (৩২)। তারা সবাই তাড়াশ থানার আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চান স্থানীয়রা।

পুলিশের এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্টদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

ওসি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানকে গুরুত্ব দিয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক একটি সামাজিক ও আইনগত সমস্যা। এর বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবারের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন হতে হবে। সন্দেহজনক মাদক কেনাবেচা বা সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাড়াশ থানার ওসি মো. ইমাম জাফর বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাড়াশ উপজেলায় মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার মূল উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে উপজেলায় মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।