১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনাকে শীতল রাখতে জলাধার সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের তাগিদ কেসিসি প্রশাসকের

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১২ Time View

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে খুলনা নগরবাসীকে রক্ষা এবং শহরের তাপমাত্রা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের তাগিদ দিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘‘লিভিং ইন এ হটার ওয়ার্ল্ড : ইমপ্রুভড হিট প্রিপেয়ার্ডনেস এন্ড মিটিগেশন থ্রু কমিউনিটি রেসপনসিভ আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমস ইন থ্রি গ্লোবাল সাউথ সিটিস’’ শীর্ষক প্রকল্পের অবহিতকরণ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক বলেন, “এক সময় শহরের প্রতিটি বাড়িতে একটি করে পুকুর ছিল এবং পর্যাপ্ত গাছপালা ছিল, ফলে তাপদাহের কোন তীব্র প্রভাব এ শহরে দেখা যেত না। কিন্তু সময়ের আবর্তে এই প্রিয় শহরে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং নানা ধরণের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ কারণে নগরীকে কিভাবে শীতল রাখা যায় তা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।” পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের পাশাপাশি নগরীতে পর্যাপ্ত গাছ লাগানোর মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের কাজের সঠিক সমন্বয় ও নিবিড় মনিটরিং করা গেলে প্রতিটি প্রকল্প ফলপ্রসূ হবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন’ এই সভার আয়োজন করে। উল্লেখ্য, সংস্থাটি ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।
সভায় জানানো হয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ মেয়াদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় প্রভাব, বিশেষ করে তাপদাহ ও এর বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে, যা তাপদাহ মোকাবিলায় খুলনা নগরীকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম এর মধ্যে নগর তাপমাত্রা ও হট-স্পট ম্যাপিং, মোবাইল হিট সেন্সর স্থাপন, আগাম সতর্কীকরণ ও চাহিদা মূল্যয়ন, ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অংশগ্রহণমূলক মূল্যায়ন, তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা ও পাইলট প্রকল্প, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম এবং প্রকল্পের পটভূমি ও প্রস্তাবিত কার্যক্রম উপস্থাপন করেন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স থিম্যাটিক লিড তামান্না রহমান।
অবহিতকরণ সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস ও আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক প্রফেসর ড. তুষার কান্তি রায় ও মো: রায়হান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিল সওগাত ও মো: তৌকির হোসেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: হারুন অর রশিদসহ কেসিসির প্রকল্পভুক্ত ওয়ার্ডসমূহের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অংশীজন প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

খুলনাকে শীতল রাখতে জলাধার সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের তাগিদ কেসিসি প্রশাসকের

Update Time : ১০:৪৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে খুলনা নগরবাসীকে রক্ষা এবং শহরের তাপমাত্রা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের তাগিদ দিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘‘লিভিং ইন এ হটার ওয়ার্ল্ড : ইমপ্রুভড হিট প্রিপেয়ার্ডনেস এন্ড মিটিগেশন থ্রু কমিউনিটি রেসপনসিভ আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমস ইন থ্রি গ্লোবাল সাউথ সিটিস’’ শীর্ষক প্রকল্পের অবহিতকরণ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক বলেন, “এক সময় শহরের প্রতিটি বাড়িতে একটি করে পুকুর ছিল এবং পর্যাপ্ত গাছপালা ছিল, ফলে তাপদাহের কোন তীব্র প্রভাব এ শহরে দেখা যেত না। কিন্তু সময়ের আবর্তে এই প্রিয় শহরে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং নানা ধরণের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ কারণে নগরীকে কিভাবে শীতল রাখা যায় তা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।” পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের পাশাপাশি নগরীতে পর্যাপ্ত গাছ লাগানোর মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের কাজের সঠিক সমন্বয় ও নিবিড় মনিটরিং করা গেলে প্রতিটি প্রকল্প ফলপ্রসূ হবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন’ এই সভার আয়োজন করে। উল্লেখ্য, সংস্থাটি ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।
সভায় জানানো হয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ মেয়াদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় প্রভাব, বিশেষ করে তাপদাহ ও এর বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে, যা তাপদাহ মোকাবিলায় খুলনা নগরীকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম এর মধ্যে নগর তাপমাত্রা ও হট-স্পট ম্যাপিং, মোবাইল হিট সেন্সর স্থাপন, আগাম সতর্কীকরণ ও চাহিদা মূল্যয়ন, ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অংশগ্রহণমূলক মূল্যায়ন, তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা ও পাইলট প্রকল্প, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম এবং প্রকল্পের পটভূমি ও প্রস্তাবিত কার্যক্রম উপস্থাপন করেন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স থিম্যাটিক লিড তামান্না রহমান।
অবহিতকরণ সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস ও আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক প্রফেসর ড. তুষার কান্তি রায় ও মো: রায়হান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিল সওগাত ও মো: তৌকির হোসেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: হারুন অর রশিদসহ কেসিসির প্রকল্পভুক্ত ওয়ার্ডসমূহের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অংশীজন প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।