রায়গঞ্জ-সলঙ্গায় চুরি ঠেকাতে রাতজাগা পাহারা, ‘বাঁশ-কল’ চেকপোস্টে পুলিশ-স্বেচ্ছাসেবীরা
- Update Time : ০৬:০৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৬ Time View

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা উপজেলায় চুরি, বিশেষ করে গরু চুরি প্রতিরোধে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। চুরি প্রতিরোধে আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, সংযোগ সড়ক ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে জোরদার করা হয়েছে ‘বাঁশ-কল’ চেকপোস্ট কার্যক্রম। পুলিশের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে প্রতিরাতে এসব চেকপোস্টে চলছে নজরদারি ও পাহারা।
রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে পড়েন, তখন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ, গ্রাম পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। সন্দেহজনক যানবাহন, পিকআপ, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তিদের গতিবিধিও নজরে রাখা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া গবাদিপশু দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নিতে চোরচক্র সাধারণত রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলে রাতভর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে গরু পরিবহনের ক্ষেত্রে সন্দেহ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান জানান, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারের উদ্ভাবিত ‘বাঁশ-কল’ চেকপোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে রাতের বেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সন্দেহজনক যানবাহন ও মানুষের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চুরি, গরু চুরি এবং অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি থানার আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকায় সব সময় পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা সম্ভব হয় না। তাই স্থানীয় বাসিন্দা, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে রাত্রীকালীন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে।
পুলিশের এই উদ্যোগে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান করে অপরিচিত যানবাহন ও ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কোনো কিছু সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের জানানো হচ্ছে। ফলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান আরও বলেন, থানায় সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য থাকলেও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা থানার রাত্রীকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, চুরি প্রতিরোধে পুলিশের নেওয়া কার্যক্রম শুধু চেকপোস্ট স্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশের এ উদ্যোগের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারও সরাসরি মাঠপর্যায়ে যুক্ত হচ্ছেন। গভীর রাতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি ‘বাঁশ-কল’ চেকপোস্টের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখছেন এবং দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের বেলায় বিভিন্ন সড়কে অপরিচিত যানবাহনের চলাচল নিয়ে অনেক সময় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে গরু চুরির আশঙ্কায় অনেক এলাকায় খামারি ও গৃহস্থরা রাত জেগে নিজেদের গবাদিপশু পাহারা দেন। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দের সমন্বিত পাহারা নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক যানবাহনের গতিবিধি চোখে পড়লে নিজেরা ঝুঁকিতে না গিয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলছে, চুরি ও গরু চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ-গ্রাম পুলিশ-স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা উপজেলার রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে।




















