শিক্ষাঙ্গনে নির্যাতন বন্ধ ও নিরাপদ পরিবেশের দাবিতে শাহবাগে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের মানববন্ধন
- প্রকাশের সময় : ০৬:৪১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 54

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানি বন্ধসহ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় মানববন্ধন করেছে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরাম।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে বক্তারা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।
মানববন্ধনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের সভাপতি রাদ উল ইসলাম। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জান্নাতুন নাঈমের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণের হেযবুত তওহীদের সভাপতি ও সংগ্রামী ছাত্রনেতা তসলিম উদ্দিন, ছাত্র ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মাহাথির, দপ্তর সম্পাদক মিফতা উল জান্নাত, সাহিত্য সম্পাদক রুহামা বিনতে আমিন, এবং শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আইমান বিন মসীহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রায়ই নির্যাতন, নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ উঠছে, যা গোটা শিক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘ব্যর্থ’ হিসেবে অভিহিত করে বক্তারা বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের এই শিক্ষাব্যবস্থা জাতির জন্য সৎ, আদর্শ ও নীতিবান নাগরিক গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে শিক্ষিত সমাজেও দুর্নীতির বিস্তার ঘটছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতির জন্য তারা ভারসাম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থাকেই দায়ী করেন।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষার গণ্ডিতে ভালো ফল করার উপযোগী না বানিয়ে মানবিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষা খাতের নানা বৈষম্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শিক্ষাবাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো, সহনীয় মাত্রায় শিক্ষা ব্যয় নির্ধারণ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি, রাজনৈতিক পক্ষপাত ও ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপন পরিহার করে সম্পূর্ণ তথ্যনির্ভর ও ভারসাম্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম প্রণয়নের দাবি জানান তারা।
ছাত্র ফোরামের ১০ দফা প্রস্তাবনা:
মানববন্ধনে শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ দফা প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের নির্যাতন ও যৌন হয়রানি স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
কর্মমুখী ও জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সম্প্রসারণ।
তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর সরকারি তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ।
দেশে যুগোপযোগী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে মেধাপাচার রোধ করা।
প্রতিবন্ধী ও শিক্ষাবঞ্চিত পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ।



























