কসবায় ২২০০ পিস ইয়াবাসহ ভাই-বোন গ্রেফতার, নেপথ্যে বড় সিন্ডিকেট
- Update Time : ০৯:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪০ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালিত এক অভিযানে ২২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সম্পর্কে আপন ভাই-বোন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক এনে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল বলে জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কসবা থানাধীন তিনলাখপীর বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকার ‘মানিক স্টোর’-এর সামনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সৈয়দাবাদ সড়কের ওপর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের মজলিশপুর (পশ্চিমপাড়া) এলাকার আবু তাহেরের মেয়ে সেলিনা আক্তার (৪৩) এবং ছেলে মিন্টু মিয়া (৪৭)।
অভিযানের বিবরণ ও উদ্ধারকৃত আলামত
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী উপপরিদর্শক রবিউল হাসনাতের নেতৃত্বে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। বেলা ১টার দিকে আসামিরা চালানের ইয়াবা হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিলে আড়ালে থাকা সদস্যরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে বিশেষ কৌশলে লুকানো ২২০০ পিস লালচে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য
স্থানীয় সূত্র ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা হওয়ার সুযোগ নিয়ে কসবার বেশ কিছু চক্র মাদক চোরাচালানে সক্রিয় রয়েছে। গ্রেফতারকৃত সেলিনা ও মিন্টু লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেদের আড়াল করতে পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ইয়াবার চালান পরিবহন করত। তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না এবং এসব ইয়াবা শহরের কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
আইনগত ব্যবস্থা
ঘটনার পর সহকারী উপপরিদর্শক রবিউল হাসনাত বাদী হয়ে কসবা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযানের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক সাজেদুল হাসান জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চালানটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। মাদকের উৎস ও এই সিন্ডিকেটের পেছনে থাকা অন্যান্যদের সনাক্ত করতে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।”




















