কীর্তনখোলায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী কঠোর অভিযান: কোণঠাঁসা বালুখেকো চক্র, আদায় ৩৫ লাখ টাকা
- Update Time : ১২:৩৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৪ Time View

বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় বালু সিন্ডিকেট। ড্রেজার জব্দ, জেল-জরিমানা ও নিয়মিত টহলের ফলে নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে বরিশাল সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন আজহারুল ইসলাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নদী ও সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন। বিশেষ করে কীর্তনখোলা নদীর চরমোনাই ও দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে এবং দিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
এসব অভিযানে একাধিক ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা, যা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের স্বস্তি ও পরিবেশ রক্ষা
দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে কীর্তনখোলার স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, আগে অভিযানের পরপরই চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হলেও বর্তমান প্রশাসনের কঠোর ও ধারাবাহিক নজরদারির কারণে বালু কাটার তৎপরতা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
চরমোনাই ও দপদপিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ নদীভাঙন রোধ এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে নদী ও জনপদ পুরোপুরি নিরাপদ রাখতে এই নজরদারি বছরজুড়ে অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সদর উপজেলার নদী ও সরকারি সম্পত্তিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


























