০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কীর্তনখোলায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী কঠোর অভিযান: কোণঠাঁসা বালুখেকো চক্র, আদায় ৩৫ লাখ টাকা

রিপোর্টার মোঃ ইব্রাহিম খলিল রুবেল
  • Update Time : ১২:৩৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৪ Time View

​বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় বালু সিন্ডিকেট। ড্রেজার জব্দ, জেল-জরিমানা ও নিয়মিত টহলের ফলে নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
​প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে বরিশাল সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন আজহারুল ইসলাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নদী ও সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন। বিশেষ করে কীর্তনখোলা নদীর চরমোনাই ও দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে এবং দিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
​এসব অভিযানে একাধিক ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা, যা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
​স্থানীয়দের স্বস্তি ও পরিবেশ রক্ষা
দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে কীর্তনখোলার স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, আগে অভিযানের পরপরই চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হলেও বর্তমান প্রশাসনের কঠোর ও ধারাবাহিক নজরদারির কারণে বালু কাটার তৎপরতা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
​চরমোনাই ও দপদপিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ নদীভাঙন রোধ এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে নদী ও জনপদ পুরোপুরি নিরাপদ রাখতে এই নজরদারি বছরজুড়ে অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
​অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সদর উপজেলার নদী ও সরকারি সম্পত্তিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কীর্তনখোলায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী কঠোর অভিযান: কোণঠাঁসা বালুখেকো চক্র, আদায় ৩৫ লাখ টাকা

Update Time : ১২:৩৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

​বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় বালু সিন্ডিকেট। ড্রেজার জব্দ, জেল-জরিমানা ও নিয়মিত টহলের ফলে নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
​প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে বরিশাল সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন আজহারুল ইসলাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নদী ও সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন। বিশেষ করে কীর্তনখোলা নদীর চরমোনাই ও দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে এবং দিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
​এসব অভিযানে একাধিক ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা, যা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
​স্থানীয়দের স্বস্তি ও পরিবেশ রক্ষা
দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে কীর্তনখোলার স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, আগে অভিযানের পরপরই চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হলেও বর্তমান প্রশাসনের কঠোর ও ধারাবাহিক নজরদারির কারণে বালু কাটার তৎপরতা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
​চরমোনাই ও দপদপিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ নদীভাঙন রোধ এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে নদী ও জনপদ পুরোপুরি নিরাপদ রাখতে এই নজরদারি বছরজুড়ে অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
​অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সদর উপজেলার নদী ও সরকারি সম্পত্তিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।