০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমলায় অবৈধ পাথর উত্তোলন: টাস্কফোর্সের অভিযান নাকি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’?

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১১ Time View

​ডিমলা (নীলফামারী): নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদী থেকে প্রতিনিয়ত ড্রেজার ও স্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সময় সময় স্থানীয় প্রশাসন ও টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে কিছু যন্ত্রাংশ বাজেয়াপ্ত বা জরিমানা করলেও, অভিযান শেষ হতেই ফের শুরু হয় পাথর উত্তোলনের উৎসব। সচেতন মহল ও স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ অভিযান কি কেবলই লোকদেখানো, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো অদৃশ্য ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’?
​আইন তোয়াক্কা না করে পাথর ও বালি উত্তোলন
তিস্তা নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গভীর থেকে পাথর ও বালি তোলায় তীরবর্তী গ্রামগুলো তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের শত শত মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নয়, বরং একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দিন-রাত সমান তালে চলছে এ কারবার।
​টাস্কফোর্সের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় টাস্কফোর্সের ঝটিকা অভিযান পরিচালনার খবর মাঝেমধ্যেই পাওয়া যায়। তবে অভিযানের আগেই তথ্য পাচার হয়ে যাওয়া কিংবা লোকদেখানো শাস্তির পর মূল হোতারা অধরা থেকে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়।
​নামমাত্র জরিমানা: অনেক সময় ড্রেজার বা যন্ত্রাংশ আংশিক ধ্বংস কিংবা সামান্য অর্থদণ্ড দিয়েই অভিযানের ইতি টানা হয়।
​মূল কারবারিরা অধরা: শ্রমিক বা যন্ত্রাংশ লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও নেপথ্যের প্রভাবশালী মূল কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হয় না।
​অভিযান শেষে পূর্বাবস্থা: টাস্কফোর্স এলাকা ত্যাগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার সচল হয় অবৈধ মেশিন।
​পরিবেশ বিপর্যয় ও হুমকির মুখে তিস্তা
নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত পাথর উত্তোলনের ফলে তিস্তার তলদেশের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে তিস্তাপাড়ের বেড়িবাঁধগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বর্ষা মৌসুমে অকাল প্লাবন ও ভাঙনের ভয়াবহতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
​প্রশাসনের বক্তব্য ও স্থানীয়দের দাবি
উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানের আশ্বাস দেওয়া হলেও, স্থায়ী সমাধান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। ডিমলার সচেতন নাগরিক ও নদী রক্ষা আন্দোলনকারীদের জোর দাবি—
​১. লোকদেখানো অভিযানের পরিবর্তে মূল অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প/টহল জোরদার করতে হবে।
৩. তিস্তা নদী ও পরিবেশের স্থায়ী সুরক্ষায় কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ডিমলায় অবৈধ পাথর উত্তোলন: টাস্কফোর্সের অভিযান নাকি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’?

Update Time : ০৩:৩২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​ডিমলা (নীলফামারী): নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদী থেকে প্রতিনিয়ত ড্রেজার ও স্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সময় সময় স্থানীয় প্রশাসন ও টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে কিছু যন্ত্রাংশ বাজেয়াপ্ত বা জরিমানা করলেও, অভিযান শেষ হতেই ফের শুরু হয় পাথর উত্তোলনের উৎসব। সচেতন মহল ও স্থানীয়দের প্রশ্ন—এ অভিযান কি কেবলই লোকদেখানো, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো অদৃশ্য ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’?
​আইন তোয়াক্কা না করে পাথর ও বালি উত্তোলন
তিস্তা নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গভীর থেকে পাথর ও বালি তোলায় তীরবর্তী গ্রামগুলো তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের শত শত মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নয়, বরং একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দিন-রাত সমান তালে চলছে এ কারবার।
​টাস্কফোর্সের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় টাস্কফোর্সের ঝটিকা অভিযান পরিচালনার খবর মাঝেমধ্যেই পাওয়া যায়। তবে অভিযানের আগেই তথ্য পাচার হয়ে যাওয়া কিংবা লোকদেখানো শাস্তির পর মূল হোতারা অধরা থেকে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়।
​নামমাত্র জরিমানা: অনেক সময় ড্রেজার বা যন্ত্রাংশ আংশিক ধ্বংস কিংবা সামান্য অর্থদণ্ড দিয়েই অভিযানের ইতি টানা হয়।
​মূল কারবারিরা অধরা: শ্রমিক বা যন্ত্রাংশ লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও নেপথ্যের প্রভাবশালী মূল কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হয় না।
​অভিযান শেষে পূর্বাবস্থা: টাস্কফোর্স এলাকা ত্যাগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার সচল হয় অবৈধ মেশিন।
​পরিবেশ বিপর্যয় ও হুমকির মুখে তিস্তা
নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত পাথর উত্তোলনের ফলে তিস্তার তলদেশের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে তিস্তাপাড়ের বেড়িবাঁধগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বর্ষা মৌসুমে অকাল প্লাবন ও ভাঙনের ভয়াবহতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
​প্রশাসনের বক্তব্য ও স্থানীয়দের দাবি
উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানের আশ্বাস দেওয়া হলেও, স্থায়ী সমাধান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। ডিমলার সচেতন নাগরিক ও নদী রক্ষা আন্দোলনকারীদের জোর দাবি—
​১. লোকদেখানো অভিযানের পরিবর্তে মূল অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প/টহল জোরদার করতে হবে।
৩. তিস্তা নদী ও পরিবেশের স্থায়ী সুরক্ষায় কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।