০৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​পাওনা টাকা চাওয়ায় চা-বিক্রেতা দুরুদ হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৭

রাশেদ আহমদ মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৩:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০ Time View

চা বিক্রির বাকির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
​আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
​ঘটনার বিবরণ
​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা এলাকার চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া আসামি ছাদিক মিয়ার কাছে তাঁর পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাদিক মিয়া স্থান ত্যাগ করেন এবং কিছু সময় পর দলবল নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ফিরে এসে দুরুদ মিয়ার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।
​স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুরুদ মিয়াকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
​মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
​হত্যাকাণ্ডের পরদিন (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহত দুরুদ মিয়ার ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৬, জিআর-১৪২/০৮, দায়রা-২২৭/০৯ইং) দায়ের করেন।
​দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ছাদিক মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
​অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর সাত আসামি—তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়াকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মামলায় বাদীপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. বিল্লাল হোসেন।
​রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া
​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, “দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও যথাযথ বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার জট কমানো সম্ভব হচ্ছে, যা বিচারপ্রার্থীদের সরাসরি উপকৃত করছে।”
​পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী জানান, “প্রকৃত অপরাধীর শাস্তির মাধ্যমে বাদীপক্ষের বিচার পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বাড়বে।”
​দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ায় রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। অন্যদিকে রায় ঘোষণার পরপরই সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছাদিক মিয়া ও তাঁর স্বজনদের আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৯

​পাওনা টাকা চাওয়ায় চা-বিক্রেতা দুরুদ হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৭

Update Time : ০৩:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

চা বিক্রির বাকির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
​আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
​ঘটনার বিবরণ
​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা এলাকার চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া আসামি ছাদিক মিয়ার কাছে তাঁর পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাদিক মিয়া স্থান ত্যাগ করেন এবং কিছু সময় পর দলবল নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ফিরে এসে দুরুদ মিয়ার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।
​স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুরুদ মিয়াকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
​মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
​হত্যাকাণ্ডের পরদিন (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহত দুরুদ মিয়ার ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৬, জিআর-১৪২/০৮, দায়রা-২২৭/০৯ইং) দায়ের করেন।
​দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ছাদিক মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
​অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর সাত আসামি—তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়াকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মামলায় বাদীপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. বিল্লাল হোসেন।
​রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া
​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, “দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও যথাযথ বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার জট কমানো সম্ভব হচ্ছে, যা বিচারপ্রার্থীদের সরাসরি উপকৃত করছে।”
​পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী জানান, “প্রকৃত অপরাধীর শাস্তির মাধ্যমে বাদীপক্ষের বিচার পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বাড়বে।”
​দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ায় রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। অন্যদিকে রায় ঘোষণার পরপরই সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছাদিক মিয়া ও তাঁর স্বজনদের আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।