০৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুকসুদপুর-ঢাকা রুটে গলাকাটা বাসভাড়া: ২৫১ টাকার ভাড়া আদায় হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা!

মোঃ খসরু নোমান স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • Update Time : ০৭:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪৪ Time View

​মুকসুদপুর-ঢাকা মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস সার্ভিসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চরম নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি। সরকারি ভাড়ার নিয়ম উপেক্ষা করে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করছে বাস মালিক ও পরিবহন শ্রমিকরা। এতে গত দুই দশক ধরে চরম আর্থিক শোষণের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
​সরেজমিনে ও ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনা থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ২২২ কিলোমিটার এবং এই দূরত্বের জন্য সরকার নির্ধারিত নন-এসি বাসভাড়া ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি কিলোমিটারের নির্ধারিত ভাড়া পড়ে প্রায় ২.৯২ টাকা। এই হিসাবে মুকসুদপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার, যার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ২৫১ টাকা থেকে ২৫৬ টাকা।
​অথচ বাস্তবে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ২৫১ টাকার সেই নির্ধারিত ভাড়ার বিপরীতে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে আদায় করা হচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। এখানেই শেষ নয়—যাত্রীদের অভিযোগ, কাল থেকে এই ভাড়ায় আরও অতিরিক্ত ৫০ টাকা যোগ করার পায়তারা চলছে।
​স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ২০ বছর ধরে মুকসুদপুরের যাত্রীরা এই প্রকাশ্য জুলুম ও অনিয়মের শিকার হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ নিম্ন-আয়ের মানুষকে। প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তদারকি না থাকায় পরিবহন সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
​মুকসুদপুরবাসীর দাবি, কিলোমিটার প্রতি সরকারি তালিকা মেনে দ্রুত সঠিক ভাড়া কার্যকর করা হোক এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী বাসগুলোর বিরুদ্ধে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মুকসুদপুর-ঢাকা রুটে গলাকাটা বাসভাড়া: ২৫১ টাকার ভাড়া আদায় হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা!

Update Time : ০৭:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​মুকসুদপুর-ঢাকা মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস সার্ভিসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চরম নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি। সরকারি ভাড়ার নিয়ম উপেক্ষা করে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করছে বাস মালিক ও পরিবহন শ্রমিকরা। এতে গত দুই দশক ধরে চরম আর্থিক শোষণের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
​সরেজমিনে ও ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনা থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ২২২ কিলোমিটার এবং এই দূরত্বের জন্য সরকার নির্ধারিত নন-এসি বাসভাড়া ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি কিলোমিটারের নির্ধারিত ভাড়া পড়ে প্রায় ২.৯২ টাকা। এই হিসাবে মুকসুদপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার, যার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ২৫১ টাকা থেকে ২৫৬ টাকা।
​অথচ বাস্তবে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ২৫১ টাকার সেই নির্ধারিত ভাড়ার বিপরীতে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে আদায় করা হচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। এখানেই শেষ নয়—যাত্রীদের অভিযোগ, কাল থেকে এই ভাড়ায় আরও অতিরিক্ত ৫০ টাকা যোগ করার পায়তারা চলছে।
​স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ২০ বছর ধরে মুকসুদপুরের যাত্রীরা এই প্রকাশ্য জুলুম ও অনিয়মের শিকার হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ নিম্ন-আয়ের মানুষকে। প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তদারকি না থাকায় পরিবহন সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
​মুকসুদপুরবাসীর দাবি, কিলোমিটার প্রতি সরকারি তালিকা মেনে দ্রুত সঠিক ভাড়া কার্যকর করা হোক এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী বাসগুলোর বিরুদ্ধে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।