০৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক রতনপুর জমিদার বাড়ি: পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবি

মোঃ মেহেদী হাসান, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৪:১৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৬ Time View

এক সময়ের প্রতাপশালী জমিদার রক্ষুনী কান্তের স্মৃতিবিজড়িত দিনাজপুরের ঐতিহাসিক রতনপুর জমিদার বাড়িটি আজ বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে জমিদারের দরবারে প্রতিবেশী কেউ গেলে তাদের প্রস্থানের পর সেই স্থান ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হতো। নিঃসন্তান এই জমিদার ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রাতের আঁধারে মহিষের গাড়িতে চড়ে সস্ত্রীক ভারতের কলকাতায় পাড়ি জমান।
​পরবর্তীকালে জমিদার বাড়িটি স্থানীয় ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ভবনটি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে এর উত্তর পাশে নতুন ভবন নির্মাণ করে সেখানে স্থানান্তরিত করা হয় খানপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। বর্তমানে পরিত্যক্ত এই জমিদার বাড়ির আশপাশে গড়ে উঠেছে ইসলামিক মিশন, মাদ্রাসা ও মসজিদসহ একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বাড়ির পাশেই রয়েছে একটি বিশাল দিঘি।
​জানা গেছে, জমিদার রক্ষুনী কান্তের প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি, ফলদ, বনজ ও ঔষধি বাগান যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে বেদখল ও বিলীন হয়ে গেছে। তবে যতটুকুর সন্ধান পাওয়া গেছে, তা দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জঙ্গল ও লতাপাতায় ঢেকে গিয়ে বর্তমানে এটি ভুতুড়ে রূপ ধারণ করেছে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি রক্ষায় ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংস্কারের কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
​স্থানীয়দের দাবি, বিরামপুর উপজেলার কোল ঘেঁষে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন আশুড়ার বিল ও তার আঁকাবাঁকা কাঠের সেতুকে ঘিরে ইতিমধ্যে পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। আশুড়ার বিলের সঙ্গে সংযোগ রেখে রতনপুর জমিদার বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। এতে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা একই সাথে বিল ও ঐতিহাসিক বাড়িটি দেখার সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক রতনপুর জমিদার বাড়ি: পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবি

Update Time : ০৪:১৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক সময়ের প্রতাপশালী জমিদার রক্ষুনী কান্তের স্মৃতিবিজড়িত দিনাজপুরের ঐতিহাসিক রতনপুর জমিদার বাড়িটি আজ বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে জমিদারের দরবারে প্রতিবেশী কেউ গেলে তাদের প্রস্থানের পর সেই স্থান ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হতো। নিঃসন্তান এই জমিদার ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রাতের আঁধারে মহিষের গাড়িতে চড়ে সস্ত্রীক ভারতের কলকাতায় পাড়ি জমান।
​পরবর্তীকালে জমিদার বাড়িটি স্থানীয় ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ভবনটি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে এর উত্তর পাশে নতুন ভবন নির্মাণ করে সেখানে স্থানান্তরিত করা হয় খানপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। বর্তমানে পরিত্যক্ত এই জমিদার বাড়ির আশপাশে গড়ে উঠেছে ইসলামিক মিশন, মাদ্রাসা ও মসজিদসহ একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বাড়ির পাশেই রয়েছে একটি বিশাল দিঘি।
​জানা গেছে, জমিদার রক্ষুনী কান্তের প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি, ফলদ, বনজ ও ঔষধি বাগান যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে বেদখল ও বিলীন হয়ে গেছে। তবে যতটুকুর সন্ধান পাওয়া গেছে, তা দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জঙ্গল ও লতাপাতায় ঢেকে গিয়ে বর্তমানে এটি ভুতুড়ে রূপ ধারণ করেছে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি রক্ষায় ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংস্কারের কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
​স্থানীয়দের দাবি, বিরামপুর উপজেলার কোল ঘেঁষে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন আশুড়ার বিল ও তার আঁকাবাঁকা কাঠের সেতুকে ঘিরে ইতিমধ্যে পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। আশুড়ার বিলের সঙ্গে সংযোগ রেখে রতনপুর জমিদার বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। এতে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা একই সাথে বিল ও ঐতিহাসিক বাড়িটি দেখার সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।