রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১টি ফ্যান চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা।
- Update Time : ০৯:০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১২ Time View

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১টি ফ্যান চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা।
এ সময় বিদ্যালয়ের একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও নিয়ে যায় তারা। তবে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভার বিদ্যালয়ে ফেলে গেছে চোরেরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কক্ষের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। চোরেরা টেবিল ব্যবহার করে ওপরে ওঠায় টেবিলের ওপর জুতার স্পষ্ট ছাপও দেখা গেছে। তবে কাঠের আলমারিতে রাখা ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টরের সরঞ্জাম অক্ষত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিদ্যালয়ের মূল ক্যাচিগেট অক্ষত রেখেই বারান্দার গ্রিল ব্যবহার করে দোতলায় উঠে চোরেরা ফ্যানগুলো খুলে নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে শ্রেণিকক্ষে গিয়ে তারা ফ্যানের সুইচ দিলেও ফ্যান চালু হয়নি। পরে ওপরে তাকিয়ে দেখতে পায়, কক্ষের কোনো ফ্যানই নেই। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ফ্যান ছাড়া ক্লাস করতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমেন চন্দ্র রায়ের বাবা বলেন, সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে শুনি ১১টি ফ্যান চুরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে এসে বিদ্যালয়ের তালা খুলি। পরে অফিস কক্ষ এলোমেলো দেখতে পাই। টেবিলের ওপর জুতার ছাপও ছিল। ওপরে তাকিয়ে দেখি ৪টি ফ্যান নেই। পরে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষেও গিয়ে আরও সাতটি ফ্যান পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, রাতের কোনো একসময় কে বা কারা বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে এসব ফ্যান নিয়ে গেছে। তারা একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকাও নিয়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের এই শিক্ষক আরও বলেন, ছুটির পর আমরা বিদ্যালয় থেকে চলে যাই। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি, কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পর এখানে কয়েকজন আড্ডা দেয় এবং মাদক সেবন করে। তারাই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা আমরা জানি না। এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















