১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লৌহজংয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ প্রস্তুতি সভাপদ্মায় ২২ দিন সব ধরনের মাছ ধরা, বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং বন্ধ

ফৌজি হাসান খান রিকু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিদিন
  • Update Time : ১০:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৭ Time View

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বোরহান উল ইসলাম, পদ্মা সেতু উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আখতার হোসেন, মাওয়া নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. মালেক খসরু খান, লৌহজং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।

সভায় জানানো হয়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয়, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে লৌহজংয়ের পদ্মা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে দিন-রাত নৌ টহল জোরদার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা ছাড়াও বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে বিদেশি ফিশিং ট্রলারের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী কঠোর নজরদারি চালাবে।

নিবন্ধিত জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা সচল রাখতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি জেলে পরিবারকে এককালীন ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, “ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ দিন কোনো জেলে নদীতে মাছ ধরতে পারবেন না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশের ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ থাকবে।”

সভায় আরও জানানো হয়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। নদীপথে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে দেশের ৩৮টি জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি প্রধান ইলিশ উৎপাদনকারী জেলায় সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। এসব জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জসহ চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া অবশিষ্ট ১৮টি জেলায় শুধু ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞাকালীন সংশ্লিষ্ট এলাকার বরফকল বন্ধ রাখার পাশাপাশি জেলেদের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, বিজিবি, বিমান বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, আড়তদার, ট্রলার মালিক ও জেলেদের সম্মিলিত সহযোগিতায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ সফল করার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

লৌহজংয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ প্রস্তুতি সভাপদ্মায় ২২ দিন সব ধরনের মাছ ধরা, বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং বন্ধ

Update Time : ১০:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বোরহান উল ইসলাম, পদ্মা সেতু উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আখতার হোসেন, মাওয়া নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. মালেক খসরু খান, লৌহজং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।

সভায় জানানো হয়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয়, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে লৌহজংয়ের পদ্মা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে দিন-রাত নৌ টহল জোরদার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা ছাড়াও বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে বিদেশি ফিশিং ট্রলারের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী কঠোর নজরদারি চালাবে।

নিবন্ধিত জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা সচল রাখতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি জেলে পরিবারকে এককালীন ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, “ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ দিন কোনো জেলে নদীতে মাছ ধরতে পারবেন না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশের ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ থাকবে।”

সভায় আরও জানানো হয়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। নদীপথে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে দেশের ৩৮টি জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি প্রধান ইলিশ উৎপাদনকারী জেলায় সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। এসব জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জসহ চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া অবশিষ্ট ১৮টি জেলায় শুধু ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞাকালীন সংশ্লিষ্ট এলাকার বরফকল বন্ধ রাখার পাশাপাশি জেলেদের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, বিজিবি, বিমান বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, আড়তদার, ট্রলার মালিক ও জেলেদের সম্মিলিত সহযোগিতায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ সফল করার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।