০৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​সুন্দরবনে ‘আলিফ বাহিনীর’ ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ: স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পুনর্বাসনের আশ্বাস

​শাওন আকবার শান্ত, মোংলা প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৭:২৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৫ Time View

সুন্দরবনে সক্রিয় জলদস্যু ‘আলিফ বাহিনীর’ দুটি গ্রুপের ১৫ জন সদস্য অস্ত্র ও অপরাধের পথ ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদের কাছে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারী ১৫ জনের মধ্যে বাহিনীর ‘আব্দুল্লাহ গ্রুপের’ ৮ জন এবং ‘মজিদ গ্রুপের’ ৭ জন সদস্য রয়েছেন।
​সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসনের আশ্বাস
​এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদ জানান, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁরা যাতে সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এছাড়া সুন্দরবনের অন্য যেসব জলদস্যু ও বনদস্যু অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাঁদের জন্য এসআরবির পক্ষ থেকে সহায়তার হাত বাড়ানো থাকবে।
​সুন্দরবনে বাড়ল স্বস্তি ও নিরাপত্তা
​কোম্পানি কমান্ডার বলেন, এই ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি বড় ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ সাধারণ বনজীবীদের জন্য নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
​অভিযানের মুখে আত্মসমর্পণের পথ
​এসআরবি-৬ সূত্র জানায়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং দস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এসআরবির ধারাবাহিক তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের চরম অনিশ্চয়তার কারণেই দস্যুরা অপরাধের পথ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই ১৫ জন আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করলে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
​পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি
​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ববর্তী অভিযান ও সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির ফলে এর আগেও সুন্দরবনের বেশ কিছু জলদস্যু বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে সম্প্রতি কিছু নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা, সাধারণ বনজীবীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনা সামনে এসেছে। এমনকি আগে আত্মসমর্পণ করা কিছু দস্যু পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
​এ প্রসঙ্গে নিস্তার আহমেদ স্পষ্ট জানান, সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করা এবং বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসআরবি-৬-এর প্রধান অগ্রাধিকার। দস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূলে কঠোর অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
​এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​সুন্দরবনে ‘আলিফ বাহিনীর’ ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ: স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পুনর্বাসনের আশ্বাস

Update Time : ০৭:২৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবনে সক্রিয় জলদস্যু ‘আলিফ বাহিনীর’ দুটি গ্রুপের ১৫ জন সদস্য অস্ত্র ও অপরাধের পথ ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদের কাছে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারী ১৫ জনের মধ্যে বাহিনীর ‘আব্দুল্লাহ গ্রুপের’ ৮ জন এবং ‘মজিদ গ্রুপের’ ৭ জন সদস্য রয়েছেন।
​সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসনের আশ্বাস
​এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদ জানান, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁরা যাতে সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এছাড়া সুন্দরবনের অন্য যেসব জলদস্যু ও বনদস্যু অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাঁদের জন্য এসআরবির পক্ষ থেকে সহায়তার হাত বাড়ানো থাকবে।
​সুন্দরবনে বাড়ল স্বস্তি ও নিরাপত্তা
​কোম্পানি কমান্ডার বলেন, এই ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি বড় ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ সাধারণ বনজীবীদের জন্য নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
​অভিযানের মুখে আত্মসমর্পণের পথ
​এসআরবি-৬ সূত্র জানায়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং দস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এসআরবির ধারাবাহিক তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের চরম অনিশ্চয়তার কারণেই দস্যুরা অপরাধের পথ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই ১৫ জন আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করলে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
​পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি
​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ববর্তী অভিযান ও সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির ফলে এর আগেও সুন্দরবনের বেশ কিছু জলদস্যু বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে সম্প্রতি কিছু নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা, সাধারণ বনজীবীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনা সামনে এসেছে। এমনকি আগে আত্মসমর্পণ করা কিছু দস্যু পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
​এ প্রসঙ্গে নিস্তার আহমেদ স্পষ্ট জানান, সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করা এবং বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসআরবি-৬-এর প্রধান অগ্রাধিকার। দস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূলে কঠোর অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
​এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।