০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ কোটির সেতুতে অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই: টাঙ্গাইলে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

​মোঃ আকরাম হোসেন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
  • Update Time : ১০:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৩ Time View

​টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সেতু নির্মিত হলেও সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) অভাবে তা জনগণের কোনো কাজে আসছে না। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও যাতায়াতের জন্য এলাকাবাসীকে এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের এমন ধীরগতি ও চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভে ফুটছেন স্থানীয়রা।
​স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। ফলে নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কোটি টাকার সেতুটি এখন যেন এক উপহাসে পরিণত হয়েছে।
​সম্ভাবনাময় সড়ক, থমকে আছে ঠিকাদারের ধীরগতিতে
‘মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া’ নামের এই আঞ্চলিক সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে স্থানীয়রা মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সহজেই ঢাকায় যাতায়াত করতে পারতেন। এটি ঢাকার সাথে যোগাযোগের একটি অত্যন্ত সময় সাশ্রয়ী ও সম্ভাবনাময় বিকল্প পথ হতে পারে।
​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর চরম খামখেয়ালিপনা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই এই ভোগান্তি। তারা মাঝেমধ্যেই কাজ বন্ধ রাখে।
​প্রশাসনের বক্তব্য ও জমি জটিলতা নিরসন
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বর্ষা ও জমি সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাত দেখালেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি খণ্ডন করেছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, জমি সংক্রান্ত সব আইনি জটিলতা ইতিমধ্যে নিরসন করা হয়েছে।
​অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর অবসান ঘটিয়ে দ্রুততম সময়ে সেতুটি চালু করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কামারপাড়াবাসী।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

১০ কোটির সেতুতে অ্যাপ্রোচ সড়ক নেই: টাঙ্গাইলে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

Update Time : ১০:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

​টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সেতু নির্মিত হলেও সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) অভাবে তা জনগণের কোনো কাজে আসছে না। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও যাতায়াতের জন্য এলাকাবাসীকে এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের এমন ধীরগতি ও চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভে ফুটছেন স্থানীয়রা।
​স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। ফলে নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কোটি টাকার সেতুটি এখন যেন এক উপহাসে পরিণত হয়েছে।
​সম্ভাবনাময় সড়ক, থমকে আছে ঠিকাদারের ধীরগতিতে
‘মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া’ নামের এই আঞ্চলিক সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে স্থানীয়রা মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সহজেই ঢাকায় যাতায়াত করতে পারতেন। এটি ঢাকার সাথে যোগাযোগের একটি অত্যন্ত সময় সাশ্রয়ী ও সম্ভাবনাময় বিকল্প পথ হতে পারে।
​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর চরম খামখেয়ালিপনা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই এই ভোগান্তি। তারা মাঝেমধ্যেই কাজ বন্ধ রাখে।
​প্রশাসনের বক্তব্য ও জমি জটিলতা নিরসন
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বর্ষা ও জমি সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাত দেখালেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি খণ্ডন করেছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, জমি সংক্রান্ত সব আইনি জটিলতা ইতিমধ্যে নিরসন করা হয়েছে।
​অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর অবসান ঘটিয়ে দ্রুততম সময়ে সেতুটি চালু করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কামারপাড়াবাসী।