০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ওষুধ-স্যালাইন বাইরে থেকে কেনার নির্দেশ, কর্মীর চরম অসৌজন্যমূলক আচরণে ক্ষোভ

​মোঃ এরশাদুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
  • Update Time : ১২:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৩ Time View

​কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ওষুধ, স্যালাইন ও স্যালাইন সেটসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনার নির্দেশ এবং হাসপাতালের এক কর্মীর চরম অসহযোগিতামূলক ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ‘আকাশ’ নামে এক রোগীর স্বজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এতে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আকাশ জানান, সম্প্রতি তিনি এক রোগীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ছয়তলায় যান। সেখানে দায়িত্বরত নার্সরা তাঁকে চিকিৎসা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও স্যালাইন সেট একে একে বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি সবকিছু কিনে আনলেও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে সকল সামগ্রী বাইরে থেকে কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
​আকাশের দাবি, তাঁর এমন প্রশ্ন শুনে সেখানে উপস্থিত এক হাসপাতাল কর্মী (যার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি) প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন। ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই কর্মী আকাশকে বলেন, ‘আপনি এমপিকে বিচার দেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিচার দেন, তাতে লাভ নেই।’
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্টে আকাশ সরকারি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও দরিদ্র রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে টাকা ছিল দেখে আমি ওষুধ-স্যালাইন কিনতে পেরেছি। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা কোনো দরিদ্র ও নিঃস্ব রোগীর ক্ষেত্রে যদি এমনটা ঘটে, তবে টাকা না থাকায় সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ছাড়াই চরম সংকটে পড়বে।”
​অভিযোগ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের কতিপয় কর্মচারীর এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগী ও স্বজনদের জন্য অতিরিক্ত মানসিক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী কর্মচারীর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। একই সাথে সার্বিক চিত্র সবার নজরে আনতে পোস্টটি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।
​স্থানীয়রা জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান শর্ত। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে এই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা এবং হাসপাতালে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা।
​চাইলে আপনার সুবিধামত পত্রিকার ধরণ অনুযায়ী শিরোনামটি কিছুটা পরিবর্তন করে নিতে পারেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ওষুধ-স্যালাইন বাইরে থেকে কেনার নির্দেশ, কর্মীর চরম অসৌজন্যমূলক আচরণে ক্ষোভ

Update Time : ১২:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

​কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ওষুধ, স্যালাইন ও স্যালাইন সেটসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে আনার নির্দেশ এবং হাসপাতালের এক কর্মীর চরম অসহযোগিতামূলক ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ‘আকাশ’ নামে এক রোগীর স্বজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এতে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আকাশ জানান, সম্প্রতি তিনি এক রোগীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ছয়তলায় যান। সেখানে দায়িত্বরত নার্সরা তাঁকে চিকিৎসা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও স্যালাইন সেট একে একে বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি সবকিছু কিনে আনলেও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে সকল সামগ্রী বাইরে থেকে কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
​আকাশের দাবি, তাঁর এমন প্রশ্ন শুনে সেখানে উপস্থিত এক হাসপাতাল কর্মী (যার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি) প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন। ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই কর্মী আকাশকে বলেন, ‘আপনি এমপিকে বিচার দেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিচার দেন, তাতে লাভ নেই।’
​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্টে আকাশ সরকারি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও দরিদ্র রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে টাকা ছিল দেখে আমি ওষুধ-স্যালাইন কিনতে পেরেছি। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা কোনো দরিদ্র ও নিঃস্ব রোগীর ক্ষেত্রে যদি এমনটা ঘটে, তবে টাকা না থাকায় সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ছাড়াই চরম সংকটে পড়বে।”
​অভিযোগ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের কতিপয় কর্মচারীর এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগী ও স্বজনদের জন্য অতিরিক্ত মানসিক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী কর্মচারীর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। একই সাথে সার্বিক চিত্র সবার নজরে আনতে পোস্টটি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।
​স্থানীয়রা জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান শর্ত। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে এই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা এবং হাসপাতালে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা।
​চাইলে আপনার সুবিধামত পত্রিকার ধরণ অনুযায়ী শিরোনামটি কিছুটা পরিবর্তন করে নিতে পারেন।