ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,
১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোংরা পানিতে তলিয়ে পাঠদান: ৩ নং বানিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা, কমছে শিক্ষার্থী

খন্দকার রাজিউল মতীন ধ্রুব মির্জাপুর উপজেলা প্রতিনিধি
খন্দকার রাজিউল মতীন ধ্রুব মির্জাপুর উপজেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৪:০০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 103

​বিশেষ প্রতিবেদন:
মাঠে হাঁটু সমান নোংরা পানি, চারিদিকে জলাবদ্ধতার স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। এর মধ্যেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের। এটি কোনো প্লাবিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাময়িক চিত্র নয়, ৩ নং বানিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিত্যদিনের বাস্তবতা।
​বছরের প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এই নোংরা পানি পেরিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার সময় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিশু পিছলে পড়ে গিয়ে পরনের পোশাক ভেজাচ্ছে, বই-খাতা নষ্ট করছে। এমন চরম দুরবস্থার কারণে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাবে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
​বিদ্যালয়ের মূল মাঠে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক যাতায়াত পথ সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে বাধ্য হয়ে পাশ্ববর্তী একটি পুকুরের অত্যন্ত সরু পাড় ঘেঁষে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে।
​স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সালেহা বেগম আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, “মাঠে পানি জমে থাকায় বিকল্প কোনো পথ নেই। বাধ্য হয়েই কোমলমতি শিশুদের পুকুরের সরু পাড় দিয়ে স্কুলে আসতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এই পাড় পিচ্ছিল হয়ে ওঠায় আমরা সারাক্ষণ মারাত্মক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকি। শিশুদের নিরাপত্তার খাতিরেই জরুরি ভিত্তিতে মাঠ ভরাট করা প্রয়োজন।”
​স্থানীয় অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে একদিকে যেমন যেকোনো সময় বড় ধরনের বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, অন্যদিকে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ার চরম ঝুঁকিতে পড়বে। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নোংরা পানিতে তলিয়ে পাঠদান: ৩ নং বানিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা, কমছে শিক্ষার্থী

প্রকাশের সময় : ০৪:০০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​বিশেষ প্রতিবেদন:
মাঠে হাঁটু সমান নোংরা পানি, চারিদিকে জলাবদ্ধতার স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। এর মধ্যেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের। এটি কোনো প্লাবিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাময়িক চিত্র নয়, ৩ নং বানিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিত্যদিনের বাস্তবতা।
​বছরের প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এই নোংরা পানি পেরিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার সময় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিশু পিছলে পড়ে গিয়ে পরনের পোশাক ভেজাচ্ছে, বই-খাতা নষ্ট করছে। এমন চরম দুরবস্থার কারণে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাবে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
​বিদ্যালয়ের মূল মাঠে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক যাতায়াত পথ সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে বাধ্য হয়ে পাশ্ববর্তী একটি পুকুরের অত্যন্ত সরু পাড় ঘেঁষে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে।
​স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সালেহা বেগম আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, “মাঠে পানি জমে থাকায় বিকল্প কোনো পথ নেই। বাধ্য হয়েই কোমলমতি শিশুদের পুকুরের সরু পাড় দিয়ে স্কুলে আসতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এই পাড় পিচ্ছিল হয়ে ওঠায় আমরা সারাক্ষণ মারাত্মক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকি। শিশুদের নিরাপত্তার খাতিরেই জরুরি ভিত্তিতে মাঠ ভরাট করা প্রয়োজন।”
​স্থানীয় অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে একদিকে যেমন যেকোনো সময় বড় ধরনের বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, অন্যদিকে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়ার চরম ঝুঁকিতে পড়বে। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।