পাওনা টাকা চাওয়ায় চা-বিক্রেতা দুরুদ হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৭
- Update Time : ০৩:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১১ Time View

চা বিক্রির বাকির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা এলাকার চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া আসামি ছাদিক মিয়ার কাছে তাঁর পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাদিক মিয়া স্থান ত্যাগ করেন এবং কিছু সময় পর দলবল নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ফিরে এসে দুরুদ মিয়ার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুরুদ মিয়াকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
হত্যাকাণ্ডের পরদিন (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহত দুরুদ মিয়ার ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৬, জিআর-১৪২/০৮, দায়রা-২২৭/০৯ইং) দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ছাদিক মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর সাত আসামি—তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়াকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মামলায় বাদীপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. বিল্লাল হোসেন।
রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, “দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও যথাযথ বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার জট কমানো সম্ভব হচ্ছে, যা বিচারপ্রার্থীদের সরাসরি উপকৃত করছে।”
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী জানান, “প্রকৃত অপরাধীর শাস্তির মাধ্যমে বাদীপক্ষের বিচার পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বাড়বে।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ায় রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। অন্যদিকে রায় ঘোষণার পরপরই সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছাদিক মিয়া ও তাঁর স্বজনদের আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।



















