আকর্ষণীয় ফেসবুক নিউজ হেডলাইন ছাদে বাগান, স্বপ্নের আনার! মনিরামপুরে ২০ জাতের আনার চাষে বেলালের নতুন উদ্যোগ
- Update Time : ০৭:৫৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১০ Time View

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ: একসময় মাত্র দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু
করেছিলেন যশোরের মণিরামপুরের তরুণ উদ্যোক্তা হাফেজ
বেলাল হুসাইন। ছয় বছরের ব্যবধানে সেই উদ্যোগ ছড়িয়ে
পড়েছে নানা বিদেশি ফলের বাগানে। এবার ২০ জাতের আনার
চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন তিনি। তাঁর
‘শুকরিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন
দর্শনার্থী ও আগ্রহী কৃষকেরা।
মণিরামপুর উপজেলার মাছনা খানপুর গ্রামের প্রান্তিক
কৃষক পরিবারের সন্তান বেলাল ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স
শেষ করে কৃষিকেই বেছে নেন পেশা হিসেবে। মাল্টার পর
তাঁর খামারে যুক্ত হয় ড্রাগন, স্ট্রবেরি, বারমাসি আম-লেবু,
আঙুরসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল। বর্তমানে পাঁচ শতক
জমিতে ভারতের মহারাষ্ট্রের সুপার ভাগোয়া, মৃদুলা, গুজরাটি,
থাইল্যান্ডের থাই আনার, অস্ট্রেলিয়ার বিগ থাই, রিমন,
মেক্সিকান ও পাকিস্তানি জাতসহ প্রায় ২০ জাতের আনার
চাষ করছেন তিনি।
শুধু জমিতেই নয়, শখ থেকে বাড়ির ছাদেও গড়ে তুলেছেন
আনারের বাগান। প্লাস্টিকের ড্রামে ২০ জাতের ২০টি
আনারগাছ রয়েছে সেখানে। কোনো গাছে টকটকে লাল
ফুল, কোনো গাছে গোলাপি-লালচে পাকা ফল। প্রতিটি
গাছে ২৫ থেকে ৩০টি পর্যন্ত আনার ধরেছে। ফল ও ফুলে
ছাদজুড়ে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক বাগান।
বেলাল জানান, বছরে বর্ষা ও শীত মৌসুমে দুবার আনারের
ফলন পাওয়া যায়। আনারের ফল ও কলমের চারা বিক্রি করে খরচ
বাদে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। তাঁর
ভাষায়, “আল্লাহর রহমতে প্রতিটি চাষেই লাভ হয়েছে।
আনারের বাগানও আশাব্যঞ্জক। এখান থেকে চারা উৎপাদন করে
অন্য কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছি, যাতে তাঁরাও লাভবান
হতে পারেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বেলালের সফলতা
দেখে এলাকার অনেকেই আনার চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তাঁর
উদ্যোগ শুধু কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে না,
কয়েকটি পরিবারের কর্মসংস্থানের পথও খুলে দিয়েছে।”
বেলালের খামারের শ্রমিক ইউনুস আলী বলেন, “বেলাল ভাইয়ের
এই উদ্যোগে আমাদের ১০-১৫টি পরিবারের রোজগারের পথ
তৈরি হয়েছে। তাঁর বাগান যত বড় হচ্ছে, আমাদের কাজের
সুযোগও তত বাড়ছে।”
মাছনা খানপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা
হীরামন বিশ্বাস বলেন, “হাফেজ বেলাল একজন সফল তরুণ
উদ্যোক্তা। ছাদে আনার চাষের পাশাপাশি তিনি কলমের চারা
উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাচ্ছেন। তাঁর
উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও নতুনভাবে ভাবতে উৎসাহিত করছে।”
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুনাইদ
হাবীব বলেন, “বেলাল আমাদের জন্য গর্বের। তিনি প্রমাণ
করেছেন, সঠিক প্রযুক্তি ও পরিচর্যা থাকলে এ অঞ্চলের মাটি
ও জলবায়ুতে নানা ধরনের ফল চাষ সম্ভব। কৃষি অফিস থেকে
তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”কৃষিকাজকে শুধু
আয়-রোজগারের মাধ্যম নয়, স্বপ্ন পূরণের পথ হিসেবে
দেখছেন বেলাল। তাঁর প্রত্যাশা, তাঁর সাফল্য দেখে এলাকার
শিক্ষিত ও কর্মক্ষম তরুণেরা কৃষিতে এগিয়ে আসবেন।
তাঁর ‘শুকরিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ তাই এখন শুধু একটি ফলের
বাগান নয়Ñসম্ভাবনার নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে
মণিরামপুরে।





















