ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ব্যতিক্রমী পাঠক আড্ডা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

admin
  • প্রকাশের সময় : ০২:৪৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 93

মোঃ হাসান আলী (গাইবান্ধা):

দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র (গাইবান্ধা জেলা ইউনিট) এবং সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে জেলার পরিবর্তন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী পাঠক আড্ডা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
​গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় গত শুক্রবার (১১ই সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় বাঁধের মাথা, গ্রন্থাগার মোড়ে অবস্থিত ‘পরিবর্তন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদ’-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
​পাঠক আড্ডায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পরিবর্তন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোঃ নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, “বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নিজ পরিবার ও সমাজ থেকেই শুরু করা প্রয়োজন। সাধারণত বড় বড় সভা-সেমিনারে কোমলমতি শিশুরা নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অংশ নিতে পারে না। তাই উন্মুক্ত স্থান ও গ্রামগঞ্জে বইয়ের আসর বসানো দরকার, যেন সবাই অবাধে অংশ নিতে পারে।”
​অনুষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাইবান্ধা জেলার লাইব্রেরি ইনচার্জ মোঃ হাসান আলী কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে জানান, সরকারি আর্থিক সহায়তায় দেশব্যাপী ৬৪টি জেলায় ছোট-বড় মোট ৭৬টি গাড়ির মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সেবা পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে একাধিক এবং অন্যান্য জেলায় ১টি করে গাড়ি সপ্তাহে ৬ দিন (শনিবার ব্যতীত) সেবা প্রদান করে। প্রতি জেলায় সপ্তাহে প্রায় ৪০ থেকে ৪৪টি স্পটে পাঠক পর্যায়ে বই লেনদেন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখা হয়েছে।
​বই লেনদেনের পাশাপাশি এসব স্পটে আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নাচ, গান, কুইজ, গজল, রচনা প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় দিবসসমূহ পালনসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়।
​আড্ডায় উপস্থিত অভিভাবক ও পাঠাগারের সদস্যবৃন্দ মতামত প্রকাশ করেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক বইয়ের বাইরে বহুমাত্রিক বই পাঠকদের মেধা ও মননশীলতা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সাথে কোমলমতি শিশুদের বইয়ের সান্নিধ্যে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
​পাঠক আড্ডা শেষে একটি কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিচারকদের মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে বিজয়ী ৩ জন ক্ষুদে পাঠককে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির পক্ষ থেকে বই উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রিদয় মিয়া, মুনজিলা আক্তার, মোছাঃ নাসরিন খাতুনসহ অন্যান্য অভিভাবক ও পাঠাগার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পাঠক ও সুধীজন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
admin

গাইবান্ধায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ব্যতিক্রমী পাঠক আড্ডা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

প্রকাশের সময় : ০২:৪৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ হাসান আলী (গাইবান্ধা):

দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র (গাইবান্ধা জেলা ইউনিট) এবং সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে জেলার পরিবর্তন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী পাঠক আড্ডা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
​গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় গত শুক্রবার (১১ই সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় বাঁধের মাথা, গ্রন্থাগার মোড়ে অবস্থিত ‘পরিবর্তন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদ’-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
​পাঠক আড্ডায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পরিবর্তন পাঠাগার ও সাহিত্য পরিষদের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোঃ নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, “বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নিজ পরিবার ও সমাজ থেকেই শুরু করা প্রয়োজন। সাধারণত বড় বড় সভা-সেমিনারে কোমলমতি শিশুরা নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অংশ নিতে পারে না। তাই উন্মুক্ত স্থান ও গ্রামগঞ্জে বইয়ের আসর বসানো দরকার, যেন সবাই অবাধে অংশ নিতে পারে।”
​অনুষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাইবান্ধা জেলার লাইব্রেরি ইনচার্জ মোঃ হাসান আলী কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে জানান, সরকারি আর্থিক সহায়তায় দেশব্যাপী ৬৪টি জেলায় ছোট-বড় মোট ৭৬টি গাড়ির মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সেবা পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে একাধিক এবং অন্যান্য জেলায় ১টি করে গাড়ি সপ্তাহে ৬ দিন (শনিবার ব্যতীত) সেবা প্রদান করে। প্রতি জেলায় সপ্তাহে প্রায় ৪০ থেকে ৪৪টি স্পটে পাঠক পর্যায়ে বই লেনদেন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখা হয়েছে।
​বই লেনদেনের পাশাপাশি এসব স্পটে আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নাচ, গান, কুইজ, গজল, রচনা প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় দিবসসমূহ পালনসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়।
​আড্ডায় উপস্থিত অভিভাবক ও পাঠাগারের সদস্যবৃন্দ মতামত প্রকাশ করেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক বইয়ের বাইরে বহুমাত্রিক বই পাঠকদের মেধা ও মননশীলতা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সাথে কোমলমতি শিশুদের বইয়ের সান্নিধ্যে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
​পাঠক আড্ডা শেষে একটি কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিচারকদের মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে বিজয়ী ৩ জন ক্ষুদে পাঠককে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির পক্ষ থেকে বই উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রিদয় মিয়া, মুনজিলা আক্তার, মোছাঃ নাসরিন খাতুনসহ অন্যান্য অভিভাবক ও পাঠাগার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পাঠক ও সুধীজন।