ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে বাঁশের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালান নরেন দাশ

admin
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 94

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি :
অভাব-অনটনের সংসারে জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর ধরে বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করে আসছেন নরেন দাস (৬৫)। বাঁশ ও বাঁশের কঞ্চি সংগ্রহ করে ঝুড়ি, ডালা, কুলা, ঘুনি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী তৈরি করে স্থানীয় ঢাকুরিয়া বাজারে বিক্রি করেই চলে তার সংসার।
নরেন দাস মণিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজরাইল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত কিরণ চন্দ্র দাস। দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। এ কাজে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।
প্রতিদিন বাঁশ ও বাঁশের কঞ্চি সংগ্রহ করে সেগুলো পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াজাত করে নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি করতে হয়। এরপর সেসব পণ্য স্থানীয় হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন নরেন দাস। তবে বর্তমানে বাঁশ ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং তৈরি পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আগের মতো আয় হচ্ছে না।
নরেন দাসের আয় সীমিত কিন্তু সংসারের ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলেছে। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ, পরিবারের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ মেটাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ধারদেনার ওপরও নির্ভর করতে হয়।
নরেন দাস বলেন, “বহু বছর ধরে বাঁশের কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা কাজে সহযোগিতা করেন। কিন্তু এখন বাঁশের দামসহ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। সেই তুলনায় আমাদের তৈরি জিনিসের দাম বাড়েনি। ফলে আয় যা হয়, তার চেয়ে সংসারের খরচ বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে অনেক কষ্ট হয়। তারপরও সন্তানদের লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করছি। সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা পেলে এই কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারতাম।”
গ্রামীণ জীবনে একসময় বাঁশের তৈরি ঝুড়ি, কুলা, ডালা, চালুনিসহ বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আধুনিক প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের তৈরি পণ্যের বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। ফলে নরেন দাসের মতো কারিগরদের জীবনযাত্রাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী বাঁশের শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন প্রাচীন এই গ্রামীণ শিল্পটি টিকে থাকবে, অন্যদিকে নরেন দাসের মতো অসচ্ছল কারিগরদের পরিবারের জীবনেও কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
admin

মণিরামপুরে বাঁশের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালান নরেন দাশ

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি :
অভাব-অনটনের সংসারে জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর ধরে বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করে আসছেন নরেন দাস (৬৫)। বাঁশ ও বাঁশের কঞ্চি সংগ্রহ করে ঝুড়ি, ডালা, কুলা, ঘুনি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী তৈরি করে স্থানীয় ঢাকুরিয়া বাজারে বিক্রি করেই চলে তার সংসার।
নরেন দাস মণিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজরাইল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত কিরণ চন্দ্র দাস। দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। এ কাজে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।
প্রতিদিন বাঁশ ও বাঁশের কঞ্চি সংগ্রহ করে সেগুলো পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াজাত করে নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি করতে হয়। এরপর সেসব পণ্য স্থানীয় হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন নরেন দাস। তবে বর্তমানে বাঁশ ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং তৈরি পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আগের মতো আয় হচ্ছে না।
নরেন দাসের আয় সীমিত কিন্তু সংসারের ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলেছে। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ, পরিবারের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ মেটাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ধারদেনার ওপরও নির্ভর করতে হয়।
নরেন দাস বলেন, “বহু বছর ধরে বাঁশের কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা কাজে সহযোগিতা করেন। কিন্তু এখন বাঁশের দামসহ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। সেই তুলনায় আমাদের তৈরি জিনিসের দাম বাড়েনি। ফলে আয় যা হয়, তার চেয়ে সংসারের খরচ বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে অনেক কষ্ট হয়। তারপরও সন্তানদের লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করছি। সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা পেলে এই কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারতাম।”
গ্রামীণ জীবনে একসময় বাঁশের তৈরি ঝুড়ি, কুলা, ডালা, চালুনিসহ বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আধুনিক প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের তৈরি পণ্যের বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। ফলে নরেন দাসের মতো কারিগরদের জীবনযাত্রাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী বাঁশের শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন প্রাচীন এই গ্রামীণ শিল্পটি টিকে থাকবে, অন্যদিকে নরেন দাসের মতো অসচ্ছল কারিগরদের পরিবারের জীবনেও কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।