ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ: প্রেমের ফাঁদ পেতে ঢাকায় আস্তানা,
- Update Time : ১০:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৭ Time View

অবশেষে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তার আসামি শাওন
বিশেষ প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে
বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব, প্রত্যাখ্যানের পর সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশল, আর শেষমেশ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ—নবম-দশম শ্রেণীর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিশানা বানিয়ে এভাবে অপরাধের জাল বিছিয়েছিল এক তরুণ। শেষ রক্ষা হয়নি; ঘটনার তদন্তে নেমে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভর করে সেই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা এলাকার ১০ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর প্রায় এক মাস ঢাকায় আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান এবং একমাত্র পলাতক আসামি রিফাত পারভেজ শাওনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিকটিম কিশোরী সরাইল থানাধীন অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। একই এলাকার কামাল পারভেজের ছেলে রিফাত পারভেজ শাওন দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হলে আসামি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৫ মে (২০২৫) সকালে ওই ছাত্রীকে স্কুলের সামনে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অপহরণ করে নিয়ে যায়।
স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে মিরপুরে ভাড়া বাসা:
অপহরণের পর শাওন ওই ছাত্রীকে ঢাকার মিরপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ওঠে। সেখানে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে মেয়েটিকে আটকে রাখে এবং তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। কিশোরীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছু দিন পর শাওন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং মেয়েটিকে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে।
একপর্যায়ে মেয়ের অবস্থান শনাক্ত করে গত ১২ জুন (২০২৬) ভিকটিমের বাবা আত্মীয়স্বজনকে সাথে নিয়ে ঢাকার মিরপুরের সেই বাসা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও যৌথ অভিযান:
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ২৩, তারিখ: ১৪/০৮/২০২৬, ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৭/৯(১))। মামলা দায়েরের পর আসামি আত্মগোপনে চলে গেলে র্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
গতকাল ৩১ আগস্ট (২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:৪০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ (সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং র্যাব-৬ (সিপিসি-২, ঝিনাইদহ)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু থানাধীন দোয়েল চত্বর মোড় এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামি শাওনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাকে সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, কিশোরী-স্কুলছাত্রীদের টার্গেট করে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সহিংসতা রোধে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।






















